মাদারীপুর সদর উপজেলার ওমানপ্রবাসী এক ব্যক্তি আগের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আরেক বিয়ে করেছেন। আগের বিয়ের খবর জানতে পেরে দ্বিতীয় স্ত্রী এসে হাজির হন প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে।

সোমবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার হাজির হাওলা দুই নম্বর ব্রিজ এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওমানপ্রবাসী মো: নুর ইসলাম নুরুকে (৩০) আটক করেছে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ। নুর ইসলাম কালকিনি ডাসার থানার বোতলা এলাকার মৃত ছেকান শেখের ছেলে।

এক বছর আগে মো: নুর ইসলাম সদর উপজেলার হাজির হাওলা দুই নম্বর ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা মাসুদ সরদারের মেয়ে মারিয়া আক্তারকে (২২) ওমান থাকা অবস্থায় ভিডিও কলের মাধ্যমে বিয়ে করেন।

বিয়ের কিছুদিন পর মো: নুর ইসলাম নুরু (৩০) দেশে এসে আত্মীয়দের সাথে নিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। কিছুদিন পর ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার চররশিপুর এলাকার বাসিন্দা রহিম উদ্দিনের মেয়ে শান্তি আক্তারের সাথে নুর ইসলামের পরিচয় হয়। পরে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু নুর ইসলাম আগের বিয়ের তথ্য ও তার স্থায়ী ঠিকানা শান্তি আক্তারের কাছে গোপন রাখেন। শান্তি আক্তার কিছুদিন পর নুর ইসলামের প্রথম বিয়ের তথ্য জেনে যান। গতকাল রাতে শান্তি আক্তার এসে হাজির হন নুর ইসলামের প্রথম স্ত্রীর বাসায়। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে নুর ইসলামকে আটক করে।

শান্তি আক্তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন জানিয়ে বলেন, তিন মাস আগে নুর ইসলাম আমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর সে আমার বাড়িতে অনেকবার গিয়েছে। আমাদের এলাকার সবাই বিষয়টি জানে। সে আমার সাথে এমন প্রতারণা করবে তা আমি ভাবতেও পারিনি। আমি এখন এলাকায় মুখ দেখাব কীভাবে? আমি এর বিচার চাই।

মারিয়া আক্তারের বাবা মাসুদ সরদার বলেন, আমি আমার মেয়েকে নুর ইসলামের সাথে বিয়ে দিয়েছি। বিয়েতে কয়েক শ’ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আমার মানসম্মান সব শেষ। আমি এই প্রতারকের বিচার চাই।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিঞা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা নুর ইসলামকে তথ্য-পরিচয় গোপন রেখে বিয়ে করার দায়ে আটক করেছি। একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।