চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্ধুকে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো: তারেক (২৪) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের আফজল নগর মুহুরীপাড়া এলাকার আবু ছিদ্দিকের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের দুই বন্ধু হেলাল ও সাজ্জাদ নামের আরো দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের খোর্দ্দ কেঁওচিয়া নুনুরবাপের হাটের মাঝেরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ছদাহা উপজেলার আফজল নগর মুহুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিএনজি অটোরিকশাচালক শহিদুল ইসলামের সাথে খোর্দ্দ কেঁওচিয়া মাঝের পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো: জুয়েলের মধ্যে এক বছর আগে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনাটি তখন স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়।
এ দিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিএনজি অটোরিকশাচালক শহিদুল ইসলাম যাত্রী নিয়ে খোর্দ্দ কেঁওচিয়া এলাকায় গেলে জুয়েল শহিদুলকে একা পেয়ে এক বছর আগের ঘটনার রেশ ধরে মারধর করে। পরে শহিদুল ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এসে বিষয়টি তার বন্ধুদের জানান। এ সময় তারেক, হেলাল ও সাজ্জাদসহ আরো কয়েকজন মিলে রাত ৮টার দিকে জুয়েলকে ধরতে খোর্দ্দ কেঁওচিয়া নুনুরবাপের হাটের মাঝেরপাড়া এলাকায় যান। এ সময় প্রতিপক্ষের জুয়েল, মিনহাজ ও মনিরের নেতৃত্বে আরো পাঁচ থেকে ছয়জন মিলে তারেক, হেলাল ও সাজ্জাদকে আটক করে মারধর ও ধারালো চাইনিজ কুড়াল ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে কেরানীহাট আশশেফা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো: তারেককে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় গুরুতর আহত অন্য দু’জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জুয়েল নামের এক যুবক অটোরিকশাচালক শহিদুলকে মারধর করে। এর জের ধরে তারেক, হেলালসহ কয়েকজন মিলে প্রতিপক্ষের জুয়েলকে ধরার জন্য খোর্দ্দ কেঁওচিয়া এলাকায় গেলে জুয়েল ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারেক নামের এক যুবক শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তারেকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।



