দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে একেরপর এক ডাকাতি ও হুমকিতে আতঙ্কিত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মোহাম্মদ আলী রেজোয়ান ও তার ছেলে মোহাম্মদ আলী রিমোনের পরিবার। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। বিষয়টি ঘোড়াঘাট থানা পুলিশকে জানিয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারটির। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রিমোনের পরিবার।
শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মোহাম্মদ আলী রেজোয়ান ও তার ছেলে মোহাম্মদ আলী রিমোন। এ সময় স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ আলী রিমোন জানান, তার বাবাসহ পরিবারের প্রায় সবাই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ২০১৪ সালে তার দেশে থাকা অবস্থায় ৫০-৬০ জনের একদল ডাকাত তাদের বাড়িতে হানা দেয়। ওই সময় ডাকাত দল তাদের মারধর করে প্রায় ২৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এর কয়েক বছর পর ডাকাত দল আবারো তাদের বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশে হানা দেয়। তখন গ্রামবাসীর ধাওয়ায় ডাকাতরা ককটেল ফাঁটিয়ে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একদল ডাকাত রিমোনদের আবাদি জমিতে সেচ দেয়ার জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে নিয়ে যায়। এরপর মোবাইলে ফোন দিয়ে লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এসব বিষয় থানায় অভিযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। বিধায় জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় আছেন পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগের সুরে রিমোন জানান, সম্প্রতি তার যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাবা বাড়িতে ফিরে এলে ডাকাত দল আবারো বাসায় ডাকাতির চেষ্টা চালায়। সবশেষ গত ২১ এপ্রিল একদল ডাকাত তাদের বাসায় হানা দেয়। তারা তাৎক্ষণিক থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আলী রিমোন আরো জানান, ডাকাত দল ওই দিন রাত পৌনে ২টার দিকে বাড়িতে হানা দেয়। আর পুলিশ আসে সাড়ে ৩টায়। তাতক্ষণে গ্রামবাসীর ধাওয়ায় ডাকাত দল পালিয়ে যায়।
আলী রিমোনের অভিযোগ একাধিকবার ডাকাত দল তাদের বাসায় হানা দিলেও থানা পুলিশকে জানিয়েও কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থাই করাছে না। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রিমোন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিনের বলেন, আলী রিমোন তার চাচাতো ভাই আলী রিয়োন এই দুই পরিবারের মাঝে জামিজমা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এনিয়ে আমরা থানায় দুই পরিবারকে নিয়ে সালিশ বৈঠকও করেছি। চাচাতো ভাই আলী রিয়োনকে ফাঁসাতে আলী রিমোন পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ করছে।
অবশ্য আলী রিমোন জানিয়েছেন, তাদের সাথে কারো কোনো বিরোধ নেই।



