খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় স্বামী ও শ্বাশুড়ির সহায়তায় দীর্ঘ দিন ধরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ মহিউদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগীর। কিন্তু মামলা করার ৪৬ দিন পার হলেও অভিযুক্ত মহিউদ্দীন মেম্বারসহ অন্য আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

উপজেলার ২ নম্বর পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ মহিউদ্দীনের বিরুদ্ধে।

ভিকটিমের বাবা ও মামলার সাইফুল ইসলাম (মামালার বাদি) অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করছে না। আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন ও বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে মামলা তুলে নিতে বলছেন। থানায় মামলা করতে গেলে তখন পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ৯ মার্চ পুলিশ মামলা নেয়।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর থেকে তিনি তার মেয়ের সাথে শ্বশুর বাড়ি পাতাছড়া এলাকায় অবস্থান করছিলেন। অভিযুক্ত মহিউদ্দীন এলাকায় খুব প্রভাবশালী এবং তার শ্বশুর বাড়ির ক্ষতি করবে এমন হুমকি দেয়ায় তিনি এলাকা ছেড়েছেন। এখনো পুলিশ তাকে কোনো সহযোগিতা করেনি।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, পাঁচ মাস আগে নাকাপা এলাকার ফয়েজের সাথে পারিবারিকভাবে ভিকটিমের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক দিন পর থেকেই স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিউদ্দীন মেম্বার জোরপূর্বক ভিকটিমকে ধর্ষণ করে আসছেন। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার লোভে ভিকটিমের স্বামী ফয়েজ ও শাশুড়ি নুরজাহান প্রতিনিয়ত স্থানীয় মেম্বার মহিউদ্দীনকে ধর্ষণে সহায়তা করে আসছেন। সুযোগ পেয়ে ভিকটিম পাশের এলাকায় তার নানার বাড়িতে এসে তার বাবাকে ঘটনা জানালে তার বাবা রামগড় থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অজয় চক্রবর্তী জানান, মহিউদ্দীন এলাকায় আসার কোনো খবর তার কাছে নেই। এলাকায় পুলিশের সোর্সদের নির্দেশ দিয়েছেন মহিউদ্দীনকে এলাকায় দেখলে জানাতে। তাছাড়া মহিউদ্দীন ও অন্য আসামিদের ধরতে কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।