চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে মা ও শিশু হাসপাতালে (প্রাঃ) ভুল চিকিৎসায় জিতু বেপারী (২৫) নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালে থাকা আসবাবপত্র ভাংচুর করে রোগীর স্বজনরা।
রোববার সকাল ৮ টায় চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের মা ও শিশু হাসপাতালে এ ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ, এসআই সুমন দেবনাথ, এএসআই মেজবাসহ পুলিশ সদস্যরা ছুটে আসেন।
মৃত জিতু বেপারী ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৯নং উত্তর গবিন্দপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার স্বপন বেপারীর ছেলে। সে ঢাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতো। জিতু গত ৮ মাস আগে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী বর্তমানে ৩ মাসের অন্তঃসত্বা।
জিতুর বোন রুনা আক্তার জানায়, বাড়িতে থাকা অবস্থায় কয়েকদিন ধরে জিতুর প্রচন্ড পেট ব্যথা হয়। পরে আমরা গ্রাম্য ডাক্তার সাইফুল ইসলাম (বাবু)র কথা অনুযায়ী চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের মা ও শিশু হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ভর্তি করিয়ে দেই। তখন ডাঃ বাবু জানায় জরুরি ভিত্তিতে জিতুর অপারেশন করতে হবে, তার পেটের নাড়ি-ভুড়ি প্যাচিয় ছিদ্র হয়ে গেছে। ৩০ হাজার টাকা লাগবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে জিতু বেপারীর অপারেশন করা হয়। শুক্রবার ভোরে জিতুর জ্ঞান ফিরে ও শনিবার রাত থেকে সে কালো বর্ণের হয়ে যায়। জিতুর অপারেশন করতে গিয়ে তারা নাড়ি ভুড়ি কেটে ফেলে। সেই যন্ত্রনায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।
জিতুর বাবা স্বপন বেপারী জানায়, আমার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে জিতু সবার বড়। আমি এ হাসপাতালে অপরেশন করতে রাজি হই নাই। গ্রাম্য ডাক্তার সাইফুল ইসলাম (বাবু) আমাকে বলছে এখানে ভালো অপারেশন হয়, চিন্তা করার কিছু নেই।
হাসপাতালের পরিচালক মোঃ মহসীন সর্দার জানায়, অপারেশন হয়েছে বৃহস্প্রতিবার সন্ধ্যায়, রোববার তাকে রিলিজ দেয়ার কথা ছিল। স্বজনরা রোগীর জ্ঞান ফিরলে অক্সিজেন খুলে কথা বলতে চায়, নার্স কে না বলে পানি খাওয়ায়। রোগী মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙ্গচুর করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়া হলে অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ সহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সায়েদ সরকার, জেলা বিএমএ সভাপতি ডাঃ এন এন হুদাসহ অন্যান্যরা হাসপাতাল কতৃপক্ষের সাথে বসে মৃতের পরিবারকে ১ লাক্ষ টাকা দিবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিষয়টি আপোষ মীমাংসা করেন।



