করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে পাঁচ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নয়া দিগন্তকে এই তথ্য জানান অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামসুদ্দৌজা।

শুক্রবার থেকে এই পাঁচ শিবিরে লকডাউন শুরু হয়েছে।

মোহাম্মদ সামসুদ্দৌজা জানান, শরণার্থী শিবিরগুলোতে লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় নিয়োজিত দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোকে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে মোট ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবির রয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার ৪টি এবং টেকনাফের ১টি শিবিরে লকডাউন ঘোষণা করেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়।

পরবর্তী নির্দেশনা দেয়া না পর্যন্ত এই শিবিরগুলোতে লকডাউন কার্যকর থাকবে বলে জানান সামসুদ্দৌজা। লকডাউন ঘোষণা করা শরণার্থী শিবিরগুলো হলো- উখিয়ার ২-ডব্লিউ, ৩, ৪, ১৫ এবং টেকনাফের ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির।

সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য অনুসারে, বুধবার পর্যন্ত কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬৩ জন এবং এদের মধ্যে মারা গেছে ১৩ জন। এ পর্যন্ত করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪১ হাজার ৪৭৭ জনের।

আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৬৩৯ জন রোহিঙ্গা। এখনো আইসোলেশনে রয়েছেন ২১১ জন।

লকডাউনের বিষয়ে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, লকডাউন ঘোষিত ক্যাম্পগুলোর বাসিন্দারা নিজেদের ক্যাম্পের বাইরে যাতায়াত করতে পারবেন না। চিকিৎসা ও খাদ্যসহ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যে কারো চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এছাড়া একান্ত প্রয়োজন ছাড়া লকডাউন ঘোষিত ক্যাম্পগুলোতে দেশী-বিদেশী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সীমিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের স্বাস্থ্য বিষয়ক শাখার সমন্বয়ক ডা. তোহা ভূঁইয়া বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে শরণার্থী শিবির গুলোর সর্বত্র আইনশৃংখলা বাহিনী রাতদিন লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করবে। লকডাউন চলাকালে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় কাজ, খাদ্য, চিকিৎসা ছাড়া এনজিও, আইএনজিও, জাতিসংঘের সংস্থাসহ ক্যাম্প গুলোতে কর্মরত সংশ্লিষ্ট সকলের গাড়ি চলাচল ও আসা-যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে ১০ দিনের ফের কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ চৌধুরী এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও বলেন, ‘কক্সবাজার জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এ উপজেলায় শুক্রবার সকাল থেকে কঠোরভাবে ১০ দিনের লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে উপজেলায় মাইকিং চলছে।’

তিনি বলেন, ‘লকডাউন সময়ে কোন লোক টেকনাফ থেকে বাইরে এবং ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। শুধু ওষুধের দোকান ছাড়া বিকেল পাচঁটা পর্যন্ত হাটবাজার ও দোকানপাট খোলা থাকবে। তবে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না।’

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবিরে মারাত্মকভাবে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর৷ এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিশ্বে মহামারীর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে বলেও উল্লেখ করে সংস্থাটি। রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংক্রমণ ঠেকাতে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিবৃতিতে সহায়তার আহ্বান জানান।