‘সুদের সুদ তো দিলাম। মারও খেলাম। কিন্তু বিচার পেলাম না। তাহলে কি মারডা ফ্রি?’ সোমবার বিকেলে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা সদর বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে এমনটাই বলছিলেন কলেজছাত্রী মিতালী মণ্ডল (২০)।
উপস্থিত সবার উদ্দেশে আক্ষেপের সাথে তিনি বলেন, ফকিরহাট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি। চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের হাড়িয়ার ঘোপ গ্রামে আমাদের বাড়ি। মা পুষ্প মণ্ডল, বাবা শেখর মণ্ডল ও ভাই আশিষ কুমার মণ্ডলকে নিয়ে চার সদস্যর পরিবার আমাদের। বাবা কৃষিকাজ করেন। ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী বিকাশ মণ্ডলের কাছ থেকে বাবা মাসিক শতকরা পাঁচ টাকা হারে ১০ হাজার টাকা সুদে নেন। কিছু দিনের মধ্যে সে টাকা সুদাসলে ২৫ হাজার টাকা হয়। তার মধ্যে বাবা আট হাজার টাকা বিকাশ মণ্ডলকে পরিশোধ করেন। কিন্তু করোনার কারণে বাকি টাকা দিতে না পারায় ২০ মে বিকাশ মণ্ডল ও তার চাচাতো ভাই স্কুলশিক্ষক সমীর মণ্ডল আমাদের বাড়িতে এস অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। আমি গালাগালি করতে নিষেধ করায় সমীর মণ্ডল আমাকে বেধড়ক মারধর করে গায়ের জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। বিষয়টি আমরা তাৎক্ষণিক চেয়ারম্যান-মেম্বারকে জানাই। এত দিন পরে সোমবার (২৪ মে) দুপুরে স্থানীয় মেম্বার মোহসীন বলেছেন আমাকে মারধরের বিচার পাবো না। উল্টো সুদের বাকি টাকা শিগগিরই পরিশোধ করতে হবে।
স্কুলশিক্ষক সমীর মণ্ডল মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, বিকাশ মণ্ডল ওদের কাছে টাকা পাবে। এ নিয়ে মিতালী ও বিকাশের মধ্যে হাতাহাতি হয়। আমি ওদের ঠেকিয়েছি।
বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ মোহসীন বলেন, বিকাশ মণ্ডল ওদের কাছে টাকা পাবে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মেটানোর জন্য আমাকে বলা হয়েছে।
বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার বলেন, মিতালীর বাবার সাথে বিকাশ মণ্ডলের লেনদেন রয়েছে। ওরা ঠিকমতো টাকা দেয় না।