নোয়াখালীর সেনবাগের ছাতারপাইয়া ইউনিয়নে এক মাদরাসাছাত্রীর সাথে এক যুবকের কথা বলা নিয়ে দুইপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)সহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিন দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সেনবাগ থানার এএসআই সমর বড়ুয়াসহ উভয় পক্ষের ১৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ছাতারপাইয়া বাজারের একটি মাদরাসার সামনে দাঁড়িয়ে এক ছাত্রীর সাথে কথা বলছিল মান্দার কান্দি (মজুমদার পাড়া) গ্রামের শরুত ভূঁইয়া বাড়ির সাগর নামের এক যুবক। এ সময় দক্ষিণ পাড়ার আজগর আলী বেপারী বাড়ির ফাহিম নামের অন্য এক যুবক বিষয়টি দেখতে পেয়ে সাগরের সাথে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তাদের দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে বিষয়টি সমাধান করে দেয়।
এ ঘটনায় বেলা ১১টা ও সাড়ে ১২টার দিকে ওই দুই যুবক লোকজন নিয়ে পুনরায় বাজারে এসে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে এ সংঘর্ষ পুরো দক্ষিণ পাড়া ও মজুমদার পাড়ায় মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অন্যের উপর হামলা চালায় ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
খবর পেয়ে সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ ও সংঘর্ষকারীদের ইটের আঘাতে এএসআই সমর বড়ুয়া আহত হন।
সাগর ও ফাহিম দুজনই ওই ছাত্রীকে পছন্দ করে এমনটা ধারণা করছে স্থানীয় লোকজন।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আব্দুল বাতেন মৃধা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এক ছাত্রীর সাথে দুই ছেলের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। ওই ছাত্রীর সাথে কথা বলা নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।



