ভোলা-লক্ষীপুর রুটের উভয় পাড়ে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে দুই শতাধিক যানবাহন। নাব্যত সঙ্কট এবং ঝড়ের কারণে তিন দিন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এ জটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা।
ঘাটে দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও ফেরির দেখা পাচ্ছে না তারা। এতে করে দুই পাড়ে দীর্ঘ লাইন পড়ায় গন্তব্যে যেতে পারছে না পণ্যবাহি ট্রাকসহ অন্য যানবহান। এতে চরম বিড়ম্বনা, দুর্ভোগ আর লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত ভোলা ইলিশা ঘাটে ৯০টি এবং মজুচৌধুরি ঘাটে আরো ৮০ পণ্যবাহি পরিবহন পারাপারের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম ভোলা-লক্ষীপুর ফেরি রুটটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের অন্যতম সহজ মাধ্যম। ২৮ কিলোমিটারের এ রুটে বর্তমানে ৪টি ফেরী নিয়মিত চলাচল করে আসছে। বর্তমানে ঘাটে দীর্ঘজটের সৃষ্টি হয়েছে।
ট্রাকচালকরা জানান, তাদের মধ্যে অনেকেই গড়ে ৩/৪ দিন ধরে অপেক্ষা করছেন কিন্তু গন্তব্যে যেতে পারছেন না, কবে যেতে পারবেন তাও তাদের জানা নেই। তাদের অভিযোগ, দৈনিক ৪টি ফেরি আটবার করে ফেরি চলাচল করলেও জট কমছে না। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
কয়েকজন ট্রাকচালক জানান, ভোলা-লক্ষীপুর রুটটি গুরুপ্তপূর্ণ হলেও অবহেলিত, একের পর এক সমস্যা লেগেই আছে। একদিকে নাব্যতা সঙ্কট অন্যদিকে জোয়ার-ভাটা। এতে ৩ ঘণ্টার পথ যেতে গড়ে ৪/৫ ঘণ্টা লাগছে।
ঘাটে গিয়ে জানা গেল, চার ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার হলেও ফেরির ট্রিপ কমে যাওয়ায় উভয় পাড়ে পরিবহনের দীর্ঘ লাইনজটের সৃষ্টি হয়েছে। জট কমাতে ৮ বার করে পারাপার হলেও কিছুতেই জট কমছে না। এতে চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে ট্রাক ও পরিবহন শ্রমিকরা।
বেশীরভাগ ট্রাকই ঘাটে ৪/৫ দিন ধরে আটকে আছে। একের পর এক সমস্যার কারণে এ রুটটি এখন বিড়ম্বনায় আর ভোগান্তিতে অতিষ্ট চলাচলকারীরা। তবে খুব দ্রুত জট কমে যাবে বলে জানিয়েছেন ভোলা ফেরিঘাটের বিআইডব্লিটিসির ম্যানেজার মো: পারভেজ খান।
তিনি বলেন, ঝড়ের কারণে ৩ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ ছিলো, এতে ঘাটে পরিবহনের চাপ বেড়েছে। তবে আমরা দ্রুত জট কমানোর চেষ্টা করছি। আশা করি, আগামী ২ দিনের মধ্য জট কমে যাবে। তখন আর এ অবস্থা থাকবে না।



