উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন করে টেকসই ও দুর্যোগ সহনশীল ঘর করে দিচ্ছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০ হাজার পরিবারকে ‘আশ্রয়ণ’ দিচ্ছে সংস্থাটি। এর মধ্যে এক হাজার ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছি তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবারের আশ্রয়ণগুলো আগের তুলনায় বেশি টেকসই, দুর্যোগ সহনশীল ও প্রশস্ত।
এর আগে গত ২২ মার্চ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী-৯, বালুখালী-৮, ইস্ট ও বালুখালী-৮, ওয়েস্ট ক্যাম্পের ১০ হাজার ১৬৫টি ঘর পুড়ে যায়। আগুনে নিহত হয় ১৫ রোহিঙ্গা।
ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের অফিস (আরআরআরসি) ও রেড ক্রিসেন্ট যৌথভাবে ৮০০ পরিবারের জন্য তাঁবু স্থাপনসহ ৭০০টি ‘অস্থায়ী আশ্রয়ণ’ নির্মাণ করে। রেড ক্রিসেন্টের পপুলেশন মুভমেন্ট অপারেশনের আওতায় কাতার রেড ক্রিসেন্টের অর্থায়নে ৭৫টি ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসের অর্থায়নে ৯২৫টি সহ মোট ১ হাজার পরিবারের জন্য অপেক্ষাকৃত অধিক শক্তিশালী আশ্রয়ণ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঁশ, লোহা, কাঠ ও অন্যান্য সামগ্রীর সমন্বয়ে, শেল্টার সেক্টর, সাইট ডেভেলপমেন্ট ও আরআরআরসি-এর অনুমোদিত নকশায় নির্মিত এই আশ্রয়ণগুলো আগের আশ্রয়ণ অপেক্ষা অধিক টেকসই ও দুর্যোগ সহনশীল এবং প্রশস্ত।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজারের হেড অব অপারেশন এম এ হালিম বলেন, ‘কক্সবাজারে নিয়োজিত মানবিক সংস্থাগুলো সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা খুব অল্প সময়েই প্রয়োজনীয় সেবাগুলো প্রদানে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে ১ হাজার আশ্রয়ণ নির্মাণের কাজ চলছে। ৩০ জুন নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। সামনের দুর্যোগ ও বর্ষার মৌসুম মাথায় রেখে এই সব আশ্রয়ণ পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্যোগ পরিস্থিতিতেও ক্যাম্প জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘আরআরআরসি ও সাইট ম্যানেজমেন্ট আমাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। অধিকতর দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধ্বসের প্রবণতা রয়েছে। এর ফলে প্রতিবছরই এই মৌসুমে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। আশা করছি এই দুর্যোগ-সহনশীল আশ্রয়ণ এবছর এই ক্ষতির পরিমাণ ও দুর্ভোগ হ্রাস করতে সহায়তা করবে।’
২০১৭ সালে শুরু হওয়া চলমান পপুলেশন মুভমেন্ট অপারেশনের অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, আইএফআরসি এবং অন্যান্য দেশের রেড ক্রস রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহায়তায় ক্যাম্পে বসবাসকারী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উভয়কেই স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি ; আশ্রয়ণ, জীবিকা ও মৌলিক চাহিদা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমের পাশাপাশি নারী ও সর্বাধিক ঝুঁকিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের সুরক্ষা সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
২০১৭ সালে অপারেশন শুরু থেকে এই পর্যন্ত, বিডিআরসিএস প্রায় ১০ লাখ মানুষকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে। গত ২২ মার্চ অগ্নিকাণ্ডের সাথে সাথে এগিয়ে যায় রেড ক্রিসেন্টের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীগণ। তারা নেভানোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাতে শেষ নয়- ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও মনো সামাজিক সহায়তা, প্রাথমিক আশ্রয়ণ, জরুরি খাদ্য সরবরাহসহ পবিত্র রমজান মাসের বিশেষ ফুড প্যাকেজ সরবরাহ ও অন্যান্য সেবা দিয়ে আসছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে ৫১ হাজার ৭২৬ পরিবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সেবা নিয়ে সর্বমোট ৭২ হাজার ২০০ ক্যাম্প ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে সেবা পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: শামছু-দ্দৌজা জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির দেয়া ১৩ দফা সুপারিশের ভিত্তিতে ধ্বংসস্তূপের ওপর শরণার্থীদের ঘরগুলো তৈরি করা হচ্ছে। কিছু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে হস্তান্তর করা হচ্ছে। আসন্ন বর্ষার আগে নতুন ঘরে ঠাঁই হবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার রোহিঙ্গার।






