মনের অদম্য ইচ্ছা আর স্বনির্ভর হওয়ার দৃঢ় আকাক্সক্ষা থাকলে আল্লাহ অন্যের কাছে হাত না পেতে জীবন চালানোর তাওফিক দেন। এমনই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রতিবন্ধী আমিনুল ইসলাম। জন্ম থেকে তার দুই হাতে ও দুই পায়ে সমস্যা। শুধুমাত্র পায়ে লিখেই এইচএসসি পাস করেছেন। পা দিয়ে লিখেই শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। উপার্জনের দায়িত্ব নিয়েছেন পরিবারের চার সদস্যের জন্য।
১৯৮২ সালে নরসিংদী জেলার মনোহরদীর খিদিরপুর ইউনিয়নে দরিদ্র কৃষক মফিজ উদ্দিন আফ্রাদ ওরফে কডু মুন্সির ঘরে আমিনুলের জন্ম। মফিজ উদ্দিনের দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে আমিনুল ছিলেন দ্বিতীয়। জন্মের সময় থেকেই আমিনুলের হাতে এবং পায়ে সমস্যা ছিল। জন্মের তিন মাসের মাথায় আমিনুলকে নিয়ে তার বাবা মা ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ডাক্তারের পরামর্শ নেন। কিন্তু বাবার অর্থিক অনটনের কারণে তার আর চিকিৎসা করা হয়নি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে কোনো বাধা মনে করেননি তিনি। বাণিজ্যিক বিভাগে ২.৪১ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। আকবর আলী খান কারিগরি কলেজ থেকে আমিনুল ২০১১ সালে বাণিজ্যিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.০০ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। বিএ তে ভর্তি হলেও পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেননি।
আমিনুল জানান, দুই ছেলে ও স্ত্রীসহ নিয়ে তার পরিবার। পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে পছন্দ। তাই যোগদান করেন বাড়ির পাশে খিদিরপুর আফজালুল উলুম কওমি মাদরাসায়। সেখানকার মাদরাসার ছাত্রদের তিনি বাংলা, গণিত এবং ইংরেজি পড়ান।
সরেজমিন মাদরাসায় গিয়ে আমিনুলকে শ্রেণী কক্ষে পাঠদান করতে দেখা যায়। তিনি পায়ের দুই আঙুলের ফাঁকায় চক ধরে বোর্ডে লিখে পাঠদান করছেন। পাঠদান সম্পর্কে জানতে চাইলে অত্র মাদরাসার নাজেরা শ্রেণীর ছাত্র আনাস জানান, আমিনুল স্যার অত্যন্ত যতœসহকারে আমাদের পড়ান।
মুখভর্তি দাড়ি, মাথায় টুপি পরা আমিনুল হাঁটুর ওপরে একটি টাউজার পরেন। হাঁটুর ওপরে কাপড় পরা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চলাফেরার এবং পায়খানা, প্রস্রাবের সুবিধার জন্য উনাকে এই পর্যন্ত টাউজার পরতে হয়। পায়ের সাথে দুই হাতও অকেজ হওয়ায় চলার জন্য তিনি হুইল চেয়ার ব্যবহার করতে পারেন না। কেবল ভিটা মাটি ছাড়া আমিনুলের চাষ করার মতো কোনো জমি নেই। আর জমি চাষ করার মতো শারীরিক সক্ষমতাও নেই তার। যার ফলে স্বল্প বেতনের এই শিক্ষকতা এবং প্রতিবন্ধী হিসেবে প্রাপ্ত কার্ডের ভাতার টাকা দিয়েই চলে তার সংসার। অল্প উপার্জনেও তিনি সন্তুষ্ট মহান রবের প্রতি। তবে কিছু টাকা পুঁজি হলে আমিনুল শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।
মাদরাসার প্রধান আব্দুল বাতেন কুদুরী বলেন, আমিনুলের পাঠদানের ওপর আমরা সন্তুষ্ট। ইংরেজিতে আমিনুল বেশ পারদর্শী।