রাজবাড়ীর কালুখালী থানার এসআই আশিকুজ্জামান আশিককে ছুরিকাঘাত করে আসামি ছিনইতাইয়ে ছয়জনকে চিহ্নিত ও অজ্ঞাত পরিচয়ে পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সবুজ মোল্লা ও রিপন মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ। রোববার তাদেরকে রাজবাড়ী আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রাজবাড়ীর কালুখালী থানায় এক জিডির ভিত্তিতে এসআই আশিকুজ্জামান আশিক সঙ্গীয় কনস্টেবল রাকিবুল ইসলাম রনি কালুখালী থানার জিআরে (নং-৬৪/২০) গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি কালুখালী উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামের আইনুদ্দিন মোল্যার ছেলে বাবুল মোল্লাকে গ্রেফতার করার জন্য বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর বাজারে যান। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সোনাপুর বাজারস্থ চার রাস্তার মোড় ব্রিজসংলগ্ন অটোস্ট্যান্ড থেকে সবুজ মোল্লাকে আটক করেন তারা। তখন সবুজ মোল্লার দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের ডান পকেট থেকে একটি গিয়ার চাকু পায় এসআই আশিকুজ্জামান। চাকুটি নিয়ে তার সঙ্গীয় কনস্টেবল রাকিবুল ইসলাম রনির কাছে দেন। এসআই আশিকুজ্জামান আটককৃত সবুজ মোল্লাকে মোটরসাইকেলে উঠতে বললে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি বাবুল মোল্লার ভাই রিপন মোল্লা এসে বলে, এই তুই গাড়িতে উঠিস না, আমি বিষয়টি দেখছি। এ কথা বলে রিপন মোল্লা চিৎকার চেচামেচি করে লোকজন জড়ো করে। এসময় সবুজ, রিপন, শিমুল, বাতেন, লিটন ও টুটুলসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন গ্রেফতারে বাধা দেন।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আসামিরা এসময় এসআই আশিকুজ্জামান ও কনস্টেবল রাকিবুল ইসলাম রনিকে মারপিট করে। মারপিটের একপর্যায়ে কনস্টেবল রাকিবুল ইসলাম রনির হাতে থাকা গিয়ার চাকুটি সবুজ মোল্লা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এসআই আশিকুজ্জামানের পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এতে এসআই আশিকুজ্জামানের পেটের ডান পাশে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। পরে আসামিরা গ্রেফতার সবুজ মোল্লাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এসআই আশিকুজ্জামান গুরুতর আহত অবস্থায় সঙ্গীয় কনস্টবল রনিসহ সোনাপুর বাজারস্থ আ: সালামের ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যায়। আক্রমণকারীরা পুনরায় ওই ফার্মেসিতে গিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। এসআই আশিকুজ্জামানকে ব্যাপক মারপিট করে ও আ: সালামের ফার্মেসি ভাঙচুর করে।
বিষয়টি অবহিত হয়ে জরুরি ডিউটিতে কর্তব্যরত এসআই মো: জাহাঙ্গীর আলম সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত সোনাপুর বাজারে আ: সালামের ফার্মেসিতে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ও আহত এসআই আশিকুজ্জামানকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে এসআই আশিকুজ্জামানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠান। এসআই আশিকুজ্জামানকে গুরুতর অবস্থায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে অস্ত্রপাচার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি থানার মামলা দায়ের করে পুলিশ। এরপর এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
রোববার বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুজ্জামান বলেন, এসআই আশিকুজ্জামানকে ছুরিকাঘাত করে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



