সালিশ বৈঠক ডেকে বাল্যবিয়ে করা নিয়ে আলোচিত সেই চেয়ারম্যান শাহীদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে এবার পটুয়াখালীর আদালতে মামলা করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ভিকটিমের বড় ভাই আল ইমরান চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে পটুয়াখালী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলাটি করেন। এতে চেয়ারম্যান সহযোগী ও কাজীসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়। আদালত আগামি ৩০ দিনের মধ্যে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন, কনকদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাহীদ হাওলাদার(৬০) মো: শাহাবুদ্দিন হাওলাদার, পলাশ হাওলাদার, সুজন হাওলাদার, মো: নুরুল আমিন বাবু, আবু সাদেক ও কনকদিয়া ইউনিয়নের কাজী মো: আইয়ূব।

মামলার বিবরণ ও ভিকটিম সূত্রে জানা যায়, আল ইমরানের ছোট ভাই হাফেজ মো: রমজানের সাথে একই এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে নাজনিন আক্তারের দীর্ঘ তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। (গোপনে তারা বিয়েও করেন) বিষয়টি জানাজানি হলে ভিকটিমের বয়স ১৮ বছর না হওয়ায় পরিবারিক ভাবে এত দিন তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেননি। কথা ছিল নাজনিনের বয়স পূর্ণ হলে তারা উভয়েই পরিবারিক ভাবে বিয়ে করবে। এ নিয়ে উভয়ের পরিবারে টানা হেচড়া চলছিল। এর ফাকে গত ২৪ তারিখ বৃহস্পতিবার নাজনিন ও রমজান বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ খবর নাজনিনের বাবা নজরুল ইসলাম কনকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানান, পরে ২৫ তারিখ শুক্রবার সকালে ছেলে মেয়েসহ তাদের পরিবারের সকলকে সালিশের জন্য চেয়ারম্যান তার আয়লা এলাকার বাড়িতে হাজির হতে বলেন। একপর্যায়ে নাজনিন, রমজান ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সবাই চেয়ারম্যানের বাড়িতে উপস্থিত হলে সেখানে সালিশ বৈঠক শুরু হয়। পরে সেখানে রমজানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। সে ও তার সহযোগীরা মিলে মো: রমজান আলীকে মারধর করে চেয়ারম্যান রমজান আলীর মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে সেখানে থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে মামলায় উল্লেখ করে রমজানের ভাই আল ইমরান।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে সেখান থেকে নাজনিনকে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায় চেয়ারম্যান শাহিন। পরে লোকমুখে শুনতে পান যে, চেয়ারম্যান তার ভাইয়ের প্রেমিকা নাজনিনকে পাঁচলাখ টাকা কাবিন দিয়ে ওই দিন বিয়ে করেন। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার হলে পরের দিন সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান নাজনিনের কাছ থেকে তালাক নামায় স্বাক্ষর করে নাজনিনকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়। এ সময় নাজনিনের সাথে তার প্রেমিক রমজানকেও জোড় করে আবার বিয়ে করিয়ে দেয় চেয়ারম্যান ও তার লোকজন।

রমজানের ভাই জানান, বর্তমানে তাদের পুরো পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে তাদেরকে বার বার হুমকি দেয়া হচ্ছে এলাকা ছাড়া করার জন্য।

উল্লেখ্য, আলোচিত এ ঘটনায় হাইকোর্টে চেয়ারম্যানের বিচারের দাবি জানিয়ে একটি মামলা করেন আইনজীবিরা। পরে হাইকোট আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী পিবিআই এবং জেলা রেজিষ্টারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এরপরের দিন সোমবার দুপুরে প্রেমিকের ভাই আল ইমরান পটুয়াখালীর আদালতেও বিচার চেয়ে একটি মামলা করেছেন।

হাইকোর্টের ওই আদেশের ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো চিঠি পাইনি। আদেশ হাতে পেলে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে কাজ করা হবে ’।