কয়েক দিনের টানা ভর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ভোগাই-চেল্লাখালি নদীর পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রবল বেগে প্রবাহিত ভোগাই-চেল্লাখালি নদীর পানির স্রোতে অন্তত ২০ জায়গা দিয়ে পানি গড়িয়ে ও পাড় ভেঙ্গে পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নের ৫০টির অধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে ভোগাই নদীর তীব্র স্রোতে নিজপাড়া এলাকার সদ্য নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধের ব্লক ভেঙ্গে গেছে এবং একই সড়কে প্রায় এক হাজার মিটার সামনের সড়কের পূর্ব অংশ ভেঙ্গে গেছে। একই সাথে এসব এলাকার প্লাবিত অঞ্চলের শতশত মানুষের পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ফলে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি কমেছে এবং ভোগাই নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে।
উপজেলা পরিষদ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত হতে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এটি একটানা চলে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। এ দিকে বুধবার দুপুরের মধ্যে ভোগাই নদী পানিতে ভরে বিপৎসীমার আনুমানিক ৩ সে: মি: উপড়ে দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এ সময় পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর গড়কান্দা পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড নামক জায়গায় ৫ শ’ মিটার ও নিজপাড়া এলাকায় ১ শ’ মিটার ভেঙ্গে পানি প্রবাহিত হতে শুরু করে। ফলে নিম্নাঞ্চল পৌরসভাসহ ভাটির ইউনিয়ন বাঘবেড়, যোগানিয়া, কলসপাড়, মরিচপুরানসহ চারটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।
এ দিকে উজানের নয়াবিল ও রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে ভোগাই নদীর প্রবাহিত হওয়ায় উপচে পড়া পানিতে অন্তত ১৫টি স্থানে ভেঙে যায়। ফলে শহরের গড়কান্দা এলাকায় তিন শতাধিক পরিবার, কাচাড়ীপাড়ায় আড়াইশ পরিবার, নিচপাড়া, শিলপাড়া এলাকাসহ আশপাশের প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বিশেষ কাচাড়ীপাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা না থাকায় বৃষ্টির পানি ও নদীর পানির কারণে নিমজ্জিত অবস্থায় আছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় এসব পরিবার এখন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
শহরের কাচাড়ীপাড়া এলাকার বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম রতন বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির কারণে আমার বাড়ি ও ঘরে চকি পর্যন্ত পানি। ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা না থাকায় এই পানি সরবে না। ব্যাপক কষ্ট ও দুর্ভোগের মধ্যে আমরা আছি।
এ দিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেলেনা পারভীন বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু বলেন, নদীর পানি এতই বেড়েছে যে নদী উপচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে অসংখ্য জায়গায় দিয়ে পানি বের হয়ে যাচ্ছে। পানি কমলে বুঝা যাবে সার্বিক পরিস্থতি।



