টানা ভারিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে আমনের বিজতলা ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ভেঙ্গে গেছে উপজেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক। পানিবন্দি হয়ে আছে উপজেলার ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ফেনাপুনি গ্রামের প্রায় ১২০ পরিবার।
জানা গেছে, উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, কাটাছরা, মিঠানালা, মিরসরাই সদর, মিরসরাই পৌরসভা, খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক সাইফুল্লাহ বলেন, বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে লাগানোর জন্য আমনের ৪৯ জাতের রোপা ছিল। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে। এখন নতুন করে বিজ ধান ক্রয় করে আবার চারা তৈরি করতে হবে।
ফেনাপুনি এলাকার বাসিন্দা এস এম হাসান বলেন, এই গ্রামে আর থাকতে মন চাইছে না। বৃষ্টি হলে বসতঘরে পানি ঢুকে যায়। একে তো লকডাউনে মানুষ বেকার। তার উপর পানি বন্দি হয়ে আছে এখানকার প্রায় ১২০ পরিবার। থাকা, রান্না করতে অনকে কষ্ট হচ্ছে।
১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ জানান, পাহাড়ি ঢলে মাইজগাঁও, খাজুরিয়া, বড়কমলদহ, গাছবাড়িয়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এছাড়া ইউনিয়নের হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়া সড়ক, নিজামপুর রেল ষ্টেশন সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে নিজামপুর রেল স্টেশন সড়ক ও হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়া সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে।
অপরদিকে, ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পাহাড় ধসের আতঙ্কক, আশংকা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে পাহাড়ী এলাকা করেরহাট, খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর, জোরারগঞ্জ, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পাহাড়িসহ প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।
জানা গেছে, খাল পাশের হাট-বাজারগুলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা। এসব স্থাপনা ও দোকানপাটের কারণে বিভিন্ন খালে পানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে প্রত্যক বছর নিন্মাঞ্চল এলাকাগুলো পানির নিচে ডুবে যায়। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে পানি নিস্কাশনের পথ না রেখে বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে উঠার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, যে বৃষ্টি হয়েছে আশা করি ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না। কারণ পানি নিচের দিকে নেমে যাবে। যদি বৃষ্টি কয়েক দিন অব্যাহত থাকে তাহলে রোপা আমনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিনহাজুর রহমান বলেন, মুলত মানুষ অপরিকল্পিতভাবে ঘর বাড়ি নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানিতে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। খৈয়াছড়ার ফেনাপুনি এলাকায় কিছু পরিবার পানিবন্দি রয়েছে বলে শুনেছি। দেখছি জন্য সরকারিভাবে কোনো খাবার দেয়া যায় কিনা।






