রাজবাড়ীতে করোনা রোগী বাড়ছে হু হু করে। রোগীদের শয্যা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সেবা প্রদানকারীদের। ফলে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ২০ শয্যার করোনা ইউনিটকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এতেও রোগীর জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। ফলে অনেক রোগী অনেক রোগী বাড়িতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজবাড়ী জেলায় নতুন করে ৮৫ জন করোনা পজেটিভ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলারই ২৯ জন।

সরজমিনে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ২০ শয্যার করোনা ইউনিটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, দুই জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছেন। তারা বলেন, ২০ শয্যাতেই রোগী ভর্তি রয়েছে। কয়েকদিন আগেও রোগীর চাপ ছিলো কম। তবে গত ৩/৪দিন ধরে অধিক চাপ। অত্যান্ত নাজুক কয়েকজন রোগী এখানে মারা গেছে। তবে বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছে।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের দায়িত্বে রয়েছেন, ডাঃ শামীম আহসান। তিনি তার স্বল্প পরিমান জনবল নিয়ে দিন রাত চালিয়ে যাচ্ছেন চেষ্টা। ওই ইউনিটের ইনচার্জ ও হাসপাতালের সিনিয়র নার্স আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, প্রতিনিয়িত বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত ৫ দিনে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা গেছে চার জন। সোমবারও এক জন বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে মারাগেছে বেশ কয়েকজন। তিনি আরো বলেন, করোনা আক্রান্তের সংখ্য অধিক হওয়ায় ২০ শয্যার করোনা ইউনিটের বাইরে হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের দ্বিতীয় তলায় আরো ৩০ টি শয্যা নতুন করে করোনা ইউনিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে এই ৫০ শয্যার মধ্যে ৪/৫টা শয্যাও খালি রাখা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত রোগী আসছে। তবে তারা তাদের সাধ্যের মধ্যে রোগীদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। যে কারণে প্রতিদিনই ৩/৪জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছেন।

হাসপাতালের তত্ববধায়ক দীপক কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, বর্তমানে করোনা রোগীর সংখ্যা বেশি। এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে তাদেরও বিকল্প চিন্তা করতে হবে। মূল হাসপাতাল ভবনের নিতচলার মেডিসিন ওয়ার্ড অন্যত্র স্থানন্তর করে আরো ৩০টি শয্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা তারা নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে অক্সিজেনের সঙ্কট নেই। তবে বেশি রোগীর আগমন নিয়ে আমরা চিন্তিত। কারণ ওই সব রোগীর ৫০ থেকে ৬০ লিটার অক্সিজেন দিতে হয়। যা এই হাসপাতালের জন্য অধিক চাপের ব্যাপার। যে কারণে সেবার সাথে জড়িতদের অক্সিজেন যাতে নষ্ট না হয় এবং প্রয়োজনের অধিক যাতে কাউকে দেয়া না হয়, সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম টিটন জানান, রাজবাড়ী জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ৮ জন মৃত্যু বরণ করেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ৮৫ জন। এ নিয়ে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫ হাজার ৭ শত ৫ জনে। এর মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ৪ হাজার ৪শত ৭০ জন। মারা গেছে ৪৯ জন। মোট আক্রান্তদের মধ্যে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ১ হাজার ১ শত ২৭ জন। সদর হাসপাতালের কোভিড ইউনিট সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে ৬৩ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে।