• আজ ৮ জুলাই ২১ বছরে পদার্পণ করল

‘পটুয়াখালী কৃষি কলেজ’ থেকে ‘পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’। ১৯৭৯ সালের ২ মার্চ পটুয়াখালীর তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম মোহাম্মদ কেরামত আলী। জেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে যোগাযোগ বিছিন্ন গ্রামীণ পরিবেশে দুমকিতে (তৎকালীন ইউপিতে) পটুয়াখালী কৃষি কলেজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। তার ২১ বছর পর ২০০০ সালের ৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায় সাবেক পটুয়াখালী কৃষি কলেজের অবকাঠামোতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন করেন।

আজ ৮ জুলাই পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২১ বছরে পদার্পণ করেছে। দক্ষিণ অঞ্চলের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় দুমকি উপজেলাবাসীসহ পটুয়াখালী ও বরিশাল জেলার সাধারণ জনগণ ও নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন যা প্রশংসার দাবি রাখে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রসর অবদানের জন্য আজ দেশ-বিদেশে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।

07
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : নয়া দিগন্ত

প্রাথমিকভাবে কৃষি সিএসই ও বিবিএ তিনটি অনুষদে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির মাধ্যমে শিক্ষা কর্যক্রম শুরু হয় যা সময়ের পরিক্রমায় আজ আটটি অনুষদের অধীনে (কৃষি অনুষদ, সিএসই অনুষদ, বিএএম অনুষদ, মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ, অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদ, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স অনুষদ এবং ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদ) শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই আটটি অনুষদের অধীনে ৯টি ডিগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। ৮৯ দশমিক ৯৭ একর আয়তনের ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ে ২ হাজার ৮৩১ জন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৫৬৭ জন এবং পিএইচডি পর্যায়ে ২৩ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৫৪ জন শিক্ষক এবং ১৭০ জন কর্মকর্তা ও ৫২৪ জন কর্মচারী নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা প্রদানের জন্য ৫টি ছাত্র হল এবং ৩টি ছাত্রী হল রয়েছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বমানের গ্রাজুয়েট তৈরির জন্য সময় উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দুমকিসহ পটুয়াখালী, বরগুনা ও বরিশাল জেলার বিভিন্ন প্রান্তিক চাষীদের চাষাবাদের ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, মৎস্যজীবীদের উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছ চাষ, মাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ, গবাদী পশু পালন ও চিকিৎস্যা সুবিধা প্রদান, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষন প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সিএসই অনুষদ এবং কৃষি ব্যবসা ও বিপণন ব্যবস্থাপনার জন্য বিএএম অনুষদ কাজ করে চলছে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে ৮৪টি গবেষণা প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ সব গবেষণা প্রকল্প থেকে আহরিত জ্ঞান দেশের উন্নয়নের কাজে লাগানো হচ্ছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তোরত্তর উন্নয়নের জন্য বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার শ’ কোটি টাকার ফার্দার ডেভোলফমেন্ট প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও অবোকাঠামোগত উন্নতি সাধিত হয়েছে। সমুদ্র ভিত্তিক অথনৈতিক কার্যক্রম (ব্লু ইকোনমি) জোরদারকল্পে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্স ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কোভিট-১৯ মহামারীর কারণে প্রায় স্থবির শিক্ষা কার্যক্রমকে সচল করার লক্ষ্যে অনলাইনে পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে একটি রিকভারি প্লান তৈরির উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।