নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকার সেজান জুস কারখানার আগুনের ঘটনায় নিচতলার কোনো শ্রমিক মারা যায়নি। দোতলা, তিন তলা ও ছয় তলার অনেক শ্রমিক বের বের হতে পারলেও চার ও পাঁচতলার কোনো শ্রমিক বের হতে পারেনি। এমনটাই নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন কারখানার আগুনের ঘটনায় আহত শ্রমিক শাহনাজ (১৯)। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে শাহনাজ বলেন, ‘আমার পরিচিত কত লোক মারা গেছে। আল্লাহ আমাকে জানে বাঁচাইছে।’
স্থানীয় ৫ নম্বর ক্লেন এলাকায় বসবাসরত বৃদ্ধ মা-বাবা ও পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট শাহনাজ। তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। বৃদ্ধ মা-বাবা। পরিবারের উপার্জনক্ষম ভাই নুরুল ইসলাম চাকরি করেন স্থানীয় নান্নু টেক্সটাইল কারখানায়। পরিবারকে অর্থনৈতিক সহয়তা করতেই সেজান জুস কারখানায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতনে কাজ নেন শাহনাজ।
বৃহস্পতিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাহনাজ বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো সকাল ৮টায় অফিসে ঢুকি। বিকেল ৫টায় কাজ শেষ করে যখন কার্ড জমা দিয়ে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখনই কারখানার নিচ তলায় আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে দোতলা থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত। আগুন লাগার পরে নিচ তলার সবাই ও দোতলার অনেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারেন। আমিও দোতলায় টোস্ট সিলিং করতাম। বিল্ডিংয়ের একদম কোণায় থাকায় আমি দৌড়ে এসে সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারিনি। পরে মাল নামানোর সাটার দিয়ে কারখানার ক্রেনে কিছু লোক নামানো হয়। আমিও ওই ক্রেনে উঠি। তখন পেছন থেকে আরো কয়েকজন ক্রেনে লাফ দিলে আমি নিচে পড়ে যাই।’
আহত শাহানাজের বড় বোন ফরিদা জানান, আগুন লাগার সাথে সাথে দৌড়ে কারখানার দিকে যাই। যেয়ে দেখি পুরো ভবনে আগুন লেগে গেছে। তিনি বলেন, ভবনের চার তলায় তালা দেয়া থাকায় চার তলা ও পাঁচ তলা বেশিরভাগ শ্রমিক নামতে পারেনি। তবে ছয় তলার অনেক লোক ছাদে উঠতে পারায় বেঁচে গেছে। তারা ষষ্ঠ তলার ছাদে তাপে পা রাখতে না পারায় পানির ট্যাঙ্কের উপরে উঠে গেছে। আবার অনেকে রশি দিয়ে নিচে নেমে গেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরি বা সেজান জুস কারখানায় আগুন লাগে। এতে অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মজিবুর রহমান জানান, ১৮টি ইউনিটের ১১০ জন কর্মীর প্রচেষ্টায় শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এখনে আমাদের ড্যাম্পিংয়ের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে আমরা পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ঘোষণা দিতে পারবো। এ জন্য সময় লাগবে।
তিনি আরো জানান, এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনায় আহত ২৫ জনকে পাশের ইউএস বাংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনা স্থলে ৪৯ জন ও মেডিক্যালে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।



