পলিথিনের ছাউনি ও ঝুপড়ি ঘরে চলছে তাদের বসবাস। ‘টোনা-টুনি’ নামে উপজেলার সকলের কাছে পরিচিত এই স্বামী-স্ত্রী দুজন। তারা পেশায় ভিক্ষুক। নিজেদের কাজ করার ক্ষমতা নেই। আকারে স্বামী-স্ত্রী ছোট হলেও স্বামী কিছুটা মানসিক রোগীর মতো আচারণ করেন। তাই তাদের কেউ কাজ দেয় না। আর স্বামী-স্ত্রী অবয়বে এক হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে মিল-মহব্বত। আবার কেউ ঠাট্টা করে টোনা-টুনি বল্লেই স্বামী লাঠি নিয়ে তেড়ে আসে তাকে মারার জন্য।
উপজেলার সুবিদখালী সাপ্তাহিক হাটের দিন দেখা মিলে ভিক্ষা করার সময়ে তাদের। এরা হলো পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামের টোনা নামে পরিচিত মো. হোচেন খা ও টুনি নামে পরিচিত ফরিদা বেগম। তাদের ঘরে কোনো সন্তান নেই। এমনকি থাকার কোনো ঘরও নেই। একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গেলেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান ফরিদা বেগম।
এদিকে উপজেলার উত্তর গাবুয়া গ্রামের মো. শাহ আলম তার স্ত্রী মোসাঃ শিউলী বেগম ও সন্তানদের নিয়ে পলিথিনের ছাউনি ও বাঁশের চাপা দিয়ে ঘরে বসবাস করছেন। শাহ আলমের ডান চোখটি নেই। এর মধ্যে কয়েক বছর আগে গলায় (থাইনোট) ক্যান্সার হওয়াতে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। বর্তমানে ছোট্ট ছেলেটি হাত ভেঙ্গে ঘরে পড়ে আছে। টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছে না।
শাহ আলম বলেন, বড় ছেলেটা বউ নিয়ে ঢাকায় থাকে। মেঝ ছেলেটাকে অনেক কষ্টে বিএ পাশ করিয়েছি। ঢাকায় চাকরি করে যে টাকা পাঠায় তাতে সংসার চলে না, ঘর উঠাব কেমন করে। এবারে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরে দুবারে পলিথিন দিয়েছি তাতেও বৃষ্টির পানি থামাতে পারি না। নিজে কাজ করতে পারি না, ছেলের উপর নির্ভর করতে হয়। তার উপর ছোট ছেলেটার লেখাপড়ার খরচ তো আছেই।
উপজেলার মির্জাগঞ্জ দরগাহ শরীফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনে বিধবা সুমতি রানী থাকেন পলিথিনের ছাউনি ঘরে। জমি বলতে বসত ঘরটুকু। মেয়েটাকে ধারদেনা করে বিবাহ দিয়েছেন কয়েক বছর আগে। মেয়ের বিবাহ দিলেও দেনার টাকা আজও পরিশোধ করতে পারেনি সুমতির ছেলেরা। ছেলে ঢাকায় কাজ করে মাকে যে টাকা পাঠায় এতে সুমতির রানীর একার সংসার চলে।
এলাকায় প্রতিবারই ঘরের তালিকা তৈরী হলেও প্রকৃত দুঃস্থ ও অসহায়দের নাম বাদ পড়ে যায় নানা কারনে। এমটাই মনে করেন অনেকেই। প্রত্যেকটি পরিবার তাদের স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। নেই তাদের মাথা গোজার ঠাঁই নাই। জমি থাকলেও নেই ঘর, তারা হতদরিদ্র মানুষ। তারা কেউ ভিক্ষা করে, কেউবা অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালায়। এখন খুব কষ্টে আছেন তারা। একটি ঘরের আশায় দিন গুনছেন তারা। তাদের যাচাই-বাছাই করে তাদের একটা ঘর পেলে স্বামী-সন্তান বা কারো স্ত্রীকে নিয়ে সুন্দরভাবে থাকতে পারবে এমনটাই মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. উজ্জল হোসেন বলেন, আসলেই শাহ আলম গরিব মানুষ। তার একটি চোখ নেই। তার জন্য একটি ঘর খুবই প্রয়োজন।
কাকড়াবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলাম মাষ্টার বলেন,আমার ইউনিয়নে যারা প্রকৃতি অসহায় তাদেরকে ঘর দেওয়ার তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে। কোনো অসহায় বা দুঃস্থ ব্যক্তি বাদ যাবে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ তানিয়া ফেরদৗস বলেন,বর্তমানে ঘর দেয়ার তালিকা চলমান আছে। দরখাস্ত পেলে যাচাই বাছাই করে হতদরিদ্রদের অবশ্যই ঘর পাবার ব্যবস্থা করব।



