নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিভৃত পল্লীতে ধানক্ষেতের মালিকের লাঠির আঘাতে স্বপ্না বেগম(২৮) নামে ছয় মাসের সন্তান সম্ভবা গৃহবধূ মৃত জমজ সন্তান প্রসব করেছেন।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর বাবা চারজনের নামে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি শুক্রবার বিকেলে বাহাগিলী ইউনিয়নের পাগলাটারি গ্রামে। স্বপ্না বেগম ওই গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই স্বপ্না বেগমের একটি গরু একই গ্রামের তোফা মিয়ার (৬০) ধানক্ষেত খায়। দেখতে পেয়ে ওই কৃষক বাড়ি থেকে একটি লাঠি নিয়ে গরুটিকে বেধরক পেটাতে থাকে। জানতে পেরে স্বপ্না বেগম তার প্রিয় গরুটিকে পেটানোর কারণ জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তোফা মিয়াসহ শাহ আলম (৩০), সাগর মিয়া (১৮) ও বাবু মিয়া (৩৩) তাকেও মারপিঠ করে। এতে ওই গর্ভবতী নারী আহত হলে তাকে ওই দিন স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি সুস্থ হয়ে ওঠার আগেই কর্তব্যরত ডাক্তার তার হাতে ছাড়পত্র ধরিয়ে দেন। পরে ওই গর্ভবতী বাড়ি চলে আসেন। হাসপাতাল ত্যাগ করার দু’দিন পর থেকেই তার পেটে আবারো অসহ্য ব্যাথ্যা ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে স্বপ্না বেগম দু’টি মৃত জমজ সন্তান প্রসব করেন।

এর আগে গ্রাম্য মাতব্বরের চাপে ২০ হাজার টাকায় ওই ঘটনা আপস রফা করতে বাধ্য হন স্বপ্না ও তার পরিবার।

স্বপ্না বেগমের স্বামী আল আমিন মিয়া বলেন, গত ২ জুলাই তোফামিয়ার ধানক্ষেতে আমার গরু কিছু অংশ খেয়ে ফেলে। তোফামিয়াসহ তার ছেলেরা এসে আমার গরুকে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। আমার স্ত্রী এসে এর কারণ জানতে চান। তখন তারা আমার গর্ভবতী স্ত্রীকেও মারপিট করে। ওই দিনই আমার আহত স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করাই। স্ত্রী সুস্থ হওয়ার আগেই ডাক্তার নাম কেটে দেয়। নাম কেটে দেয়ার দু’দিন পর বাড়িতে আমার স্ত্রী জমজ দু’মৃত সন্তান প্রসব করে। আবার আমার স্ত্রীকে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে তোফা মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার জমিতে লাগানো ধানক্ষেত খাওয়ার সময় আমিসহ আমার ছেলেরা আল আমিনের গরু ধরে নিয়ে আসার পথে তার স্ত্রী স্বপ্না দৌড়ে এসে গরুটি ছাড়িয়ে নিতে চাইলে দু’পক্ষের মধ্যে  কথাকাঁটাকাটি হয়। অসুস্থ অবস্থায় দৌড় দিয়ে আসার কারণে তার বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে।

মিমাংশা করলেন কেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এলাকার প্রধানগণ আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি আপস রফা করে দিয়েছিল।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার আবু সফি মাহমুদ বলেন, রোগী সুস্থ হওয়া না হওয়ার বিষয়টি দেখেন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও)। এরপরেও আমি ওই রোগীর ফাইলটি খতিয়ে দেখব।