রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পৌরজামতলা থেকে জেলা সদরে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ সড়কে বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে চলাচলকারী লাখ লাখ মানুষ। সংস্কার না হওয়ায় দীর্ঘ তিন-চার বছর সড়কটি ছিল খানাখন্দে ভরা। ২০১৯ সালে শেষের দিকে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয় কিন্তু শেষ হওয়ার নাম নেই। কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে তা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন এই দুর্ভোগের শেষ কবে?
জানা যায়, কম সময়ে কম খরচে রাজবাড়ী জেলা শহরসহ পশ্চিমের সব উপজেলায় সহজ যাতায়াতের জন্য মহাসড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবে বেড়িবাঁধ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করা ও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করায় সড়কটির মধ্যে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। অনেক দিন অপেক্ষার পর গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২০ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা কথা ছিল। কিন্তু জুন গেছে, ডিসেম্বর গেছে, এ বছরের জুনও গেছে, কাজ শেষ হয়নি এখনো। বরং দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রশস্ত করে নতুন সড়ক নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বর্তমানে সড়কের কাজ দৃশ্যমান হলেও পুরনো কার্পেটিং তুলে ফেলা এবং প্রশস্তের জন্য মাটি ফেলায় দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। বৃষ্টির পর এ সড়কে কাদায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পায়ে হাঁটতে গেলে হাঁটু পর্যন্ত কাদায় ডুবে যায়। সড়কের মধ্যে সৃষ্ট গর্তে পড়ে যানবাহন উল্টে যাওয়াসহ প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সংস্কারকাজ শুরুর আগে কষ্ট হলেও চলাচল করা যেত, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে সংস্কারকাজ চলায় এখন সড়কটি দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, মানুষেরও হেঁটে চলাচল করার উপায় নেই।
থ্রিহুইলার মহেন্দ্র চালক সুলতান শেখ জানান, কম সময়ে সহজে চলাচলের জন্য রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ রাস্তাটির এখন যে অবস্থা তাতে যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। খুব জরুরি প্রয়োজনে ওই রাস্তায় গেলে যন্ত্রপাতি ভেঙেচুরে যানবাহন বিকল হয়ে যায়। জ্বালানি খরচও বেশি লাগে।
গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সড়কটির এ অবস্থায় চার ইউনিয়নের মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এ চার ইউনিয়নের কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, গোয়ালন্দ উপজেলার পৌরজামতলা থেকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মৌলভী ঘাট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ সড়কটি ১২ কিলোমিটারের স্থলে ১৮ ফুট করা হচ্ছে। এতে ৩১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজটি করছে অহিদ কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যা ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অহিদ কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন জানান, চলতি জুনের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে সময় বাড়িয়ে চলতি বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।



