কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌর এলাকার বড়খারচর মহল্লায় প্রতিষ্ঠিত ফারজানা ফ্যাশন গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী ও ফারজানা সেলাই ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক ফারজানা আক্তার। এলাকার গরীব ও অসহায় বেকার নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলার প্রচেষ্টায় ধাপে ধাপে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন তিনি। এর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে কুলিয়ারচরের বেকার নারীদের।
জানা গেছে, ফারজানা আক্তার তার প্রতিষ্ঠিত সেলাই ট্রেনিং সেন্টারে কর্মহীন নারীদের সেলাই, নকশীকাথাঁ ও হাতের কাজের ওপর বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। এ ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফারজানা ফ্যাশন গার্মেন্টসে বেশ কিছু নারী পোশাক তৈরি করে আসছেন।
বড়খারচর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের কন্যা ফারজানা আক্তার নিজ উদ্যোগে নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গড়ে তোলেন 'ফারজানা সেলাই ট্রেনিং সেন্টার'। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট উপজেলার বড়খারচর এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত ফারজানা সেলাই ট্রেনিং সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনামূল্যে সেলাই ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন করেন বলে জানান উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদা খানম মুক্তা।
উদ্বোধনের পরপরই কর্মহীন ৫০ নারীকে বিনামূল্যে সেলাই এমব্রয়ডারি, ব্লক-বাটিক ও হাতের কাজের ট্রেনিং দেয়া হয়।
এরপর নিজেদের সাবলম্বী করতে ধাপে ধাপে নতুন নতুন নারীরা ফারজানা সেলাই ট্রেনিং সেন্টারে বিনামূল্যে কাজ শিখতে এগিয়ে আসছেন। গার্মেন্টস ও কুটির শিল্পের কাজ পরিচালনার পাশাপাশি বিনামূল্যে সেলাই ও কুটির শিল্পের কাজ শিখিয়ে তাদের সাবলম্বী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফারজানা।
ফারজানা ফ্যাশন গার্মেন্টসের কর্মী মোমেনা আক্তার (২৮), সাহানা বেগম (৩০), রোকসানা বেগম (৩৫) ও আসমা আক্তার (২০) ছাড়াও বেশ কয়েকজন নারী নয়া দিগন্তকে জানান, ফারজানা আপার ট্রেনিং সেন্টার থেকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষন নিয়ে তার গার্মেন্টসেই কাজ করে মাসিক সাত থেকে আট হাজার টাকা আয় করে সংসার চালাচ্ছেন তারা।
ফারজানা আক্তার বলেন, তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ফারজানা সেলাই ট্রেনিং সেন্টার নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করে কর্মহীন ও অসহায় নারীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলছেন। এছাড়া ফারজানা ফ্যাশন গার্মেন্টস নামে একটি মিনি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা করেছেন। গার্মেন্টসের মালামাল বিক্রয়ের জন্য কুলিয়ারচর শপিং কমপেক্সে একটি শো-রুম আছে তার। তার লক্ষ্য সেলাই ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষিত নারী কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে অনেক বড় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করে কর্মহীনদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশের জন্য কিছু একটা করার।
বেকারত্ব দূর করে গরীব ও অসহায় কর্মহীন নারীদের সহযোগিতা করার অঙ্গীকার নিয়ে ফারজানা আক্তার আরো বলেন, আমরা নারী, নারীরাও পারে, আমরা পিছিয়ে থাকতে চাইনা। পুরুষের পাশাপাশি আমরাও আয় করে সংসারের হাল ধরতে চাই। প্রতিটা নারী আমার মত আত্মনির্ভরশীল হোক ওই লক্ষ্যেই আমার এ বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়া। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো সহযোগিতা পেলে এলাকার বেকারত্ব হ্রাসে ও অদক্ষদের প্রশিক্ষিত করে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে আরো অনেক বড় অবদান রাখতে পারতাম।






