• আমি চলে গেলাম,
  • আমাকে সবাই মাফ করে দিও,
  • আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ি নয়।

টঙ্গীতে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন মাদকাসক্ত এক যুবক হতাশাগ্রস্ত হয়ে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন।

আত্মহত্যার আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে যান। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘না পাড়লাম মা-বাবার মন যোগাতে, না পাড়লাম বউয়ের মন যোগাতে, নেশা করার কারণে সবাই আমাকে অবহেলা করে, সবাই আমাকে ত্যাগ করেছে, আমি চলে গেলাম, আমাকে তোমরা সবাই মাফ করে দিও, আমার এই মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ি নয়।’

নিহত এই যুবকের নাম শামীম আহমেদ (২৭)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার মাঝিয়াইল গ্রামের আক্তার হোসেন দুলালের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী রসুলবাগের তৈয়ব আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন।

পুলিশ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় নিহত শামীমের ভাড়া বাসার দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

প্রতিবেশী ভাড়াটিয়াদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাদকের কারণে পরিবার থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিলেন শামীম। সম্প্রতি তার স্ত্রীও তাকে ফেলে চলে গেছে। এতে তিনি মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

মঙ্গলবার সকাল ৬টায় পাশের রুমের ভাড়াটিয়ারা শামীমকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনো সারা শব্দ না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে তাকে ফাসিলে ঝুঁলতে দেখেন। পরে থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার এস আই সাব্বির আহমেদ জানান, শামীমের লাশ ঘরের সিলিং ফ্যানের রডের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখানে তার আত্মহত্যার কারণ নিয়ে আবেগঘন লেখা ওই চিরকুটও পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শাহ আলম জানান, নিহতের স্ত্রী এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।