মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাধীন পূর্বশীলমান্দি গ্রামের আলোচিত আরাফাত হত্যার দুই মাস পর নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত লাকড়ির ঘরের মাটির নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যার সাথে জড়িত থাকা এবং হত্যার দায় স্বীকার করায় স্ত্রী আকলিমা আক্তার ও মো: রিয়াজকে (২৫) গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ২০ রমজান ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে মসজিদে অসুস্থ হয়ে পড়েন আরাফাত (৪৩)। পরে এলাকাবাসী তাকে বাড়িতে দিয়ে যায়। একই দিন দুপুরে তার স্ত্রী সবাইকে জানান, তার স্বামী ঢাকাতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেছে। এরই সূত্র ধরে গত ১৫ মে শনিবার তার স্ত্রী সাধারণ ডায়েরি (৬২৯) করেন। পত্রিকায় নিখোঁজ সংবাদও ছাপানো হয়। মুন্সীগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলাও করেন আরাফাতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার।
মামলা করেই তিনি বাবার বাড়ি চলে যান। এদিকে আরাফাত মোল্লা নিখোঁজ জেনে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। পুলিশও চেষ্টা অব্যাহত রাখে। শুক্রবার সকালে আরাফাতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার তার স্বামীর বন্ধু শিপলু সরকারের সাথে কথা বলার এক ফাঁকে বলে ফেলেন যে তিনি তার স্বামী আরাফাত মোল্লাকে খুন করেছেন। সাথে সাথে শিপলু সরকার মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে ফোন করে কথাটি জানালে পুলিশ ঘনটাস্থলে গিয়ে নিহত আরাফাতের স্ত্রী ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করে।
আকলিমা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন যে লাকড়ির ঘরে আরাফাতকে মেরে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে। পুলিশ আবার ঘটনাস্থল গিয়ে আরাফাতের পরিত্যক্ত একটি লাকড়ি রাখার ঘরের মাটির নিচে থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল নোট করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
এ সময় ঘটনাস্থল উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুমন দেব, সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজ উল ইসলাম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর ছিদ্দিক, ওসি (তদন্ত) রাজিব হোসেন খান।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ওপ্রশাসন) সুমন দেব বলেন, আরাফাত নিখোঁজের কথা বলে তার স্ত্রী মুন্সীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তদন্তের স্বার্থেই আমরা তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং আমাদের ইন্টাগেশনে আরাফাতের স্ত্রী স্বীকার করেন যে তিনি ও আরেকজন সহযোগী মিলে আরাফাতকে মেরে তাদের লাকড়ি রাখার ঘরে মাটির নিচে পুঁতে রেখেছেন। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তাকে ঘটনাস্থল নিয়ে আসি এবং তার দেখানো স্থান থেকে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করি। আকলিমা ও তার সহযোগী রিয়াজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।






