দেশের প্রধান অর্থকরী ফসলের মধ্যে পাট অন্যতম। চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকার কারণে সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা চাহিদামতো পাট চাষ করতে পারেনি।
ফাগুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে কৃষকরা জমিতে পাট বীজ বপণ করে থাকে। কিন্তু এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় তারা এ সময় জমিতে পাটের বীজ রোপণ করতে পারেনি তাই অন্যান্য বছরের তুলনায় অর্ধেক জমিতে পাট আবাদ করেছে কৃষকরা। কিন্তু এখন এই পাট চাষ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকের গলার কাটা। পানি স্বল্পতা ও কৃষাণ সঙ্কট নিয়ে নাজেহাল অবস্থায় দিন পার করছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পাট চাষীরা।
সরেজমিন উপজেলার ধলহরাচন্দ্র, ধাওড়া, হাটফাজিলপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা যায়, এবার আশানুরুপ বৃষ্টি না হওয়াতে কৃষক পানির অভাবে পাটের জাগ দিতে পারছে না। বর্ষাকালে খাল-বিল, নদী-নালা বৃষ্টির পানিতে কানায়-কানায় ভরে যায়। কিন্তু এবার বর্ষা নামলেও তা যথেষ্ট না হওয়াতে এমন অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে কৃষক ও পাটচাষীদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় চলতি বছর উপজেলার পৌর সভাসহ ১৫টি ইউনিয়নে মোট ৮ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
ধলহরাচন্দ্র গ্রামের পাট চাষি পরিক্ষিত পোদ্দার জানান, স্যালোমেশিনে সেচ দিয়ে ৪ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করি। পাট বীজ জমিতে বুনা থেকে শুরু করে কাটা, ধুয়ে বাজারে বিক্রি করা পর্যন্ত এতে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৬ শ’ থেকে ৭ শ’ টাকা হলেও শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আবার পাট কাটার পর চাষিরা গরুর গাড়ি বা মহিষের গাড়িতে করে পানি সমৃদ্ধ এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে জাগ দিয়ে পাট পচানোর জন্য। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন ও মোটরের পানি দিয়ে পাট জাঁগ দিতে গিয়ে বাড়তি খরচ করছেন।
অন্যদিকে ফলন ভালো হলে বিঘা প্রতি ৮ মণ ও ফলন খারাপ হলে ২ মণ করে পাট উৎপাদন হয়েছে বলে জানান কৃষকেরা। যা বর্তমান বাজারে ২৩ শ’ থেকে ২৪ ’শ টাকা মণ দরে বিক্রি করে নিরাশ হচ্ছে কৃষকরা।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকরাম হোসেন জানান, এবার উপজেলায় মোট ৮ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। তবে শ্রমিক সঙ্কটের কারণে পাট ঘরে তুলতে বেশি টাকা ব্যায় হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছে কৃষকরা। ন্যায্যমূল্য পেলে এই লোকসান পুশিয়ে নিতে পারবে।



