দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সঙ্কট চলছে। ফেরিঘাট এলাকায় বিশাল আকৃতির প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দামের একটি ষাঁড় গরু ট্রাকের উপরেই মরে যায়। ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পারাপার হতে পারেনি বলে জানান গরুর মালিক।
প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে ২০টি ফেরি চলাচল করলেও চলতি বছর ছোট-বড় ১৬টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ফলে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলা থেকে ঢাকাগামী সহস্রাধিক কোরবানির বিক্রির পশু-প্রাণী নিয়ে আটকা পড়ে।
শনিবার (১৭ জুলাই) সকাল ৭টায় দৌলতদিয়া রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার হরিণবাড়িয়া এলাকা থেকে গরু ব্যবসায়ী মনিরুল শেখ (৪৫) ঢাকা মেট্রো ট-১৮-৫৮০৮ ট্রাকে ১২টি গরু নিয়ে ঢাকা সাভার এলাকায় বিক্রির জন্য যাচ্ছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে ১২ ঘণ্টা সিরিয়াল অপেক্ষা করেও ফেরিতে উঠতে না পারায় প্রচণ্ড গরমে মরে যায় তার গরু। গরু মৃত্যুর পর পুঁজি হারিয়ে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে অসহায় ব্যবসায়ী মাটিতে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ ধরনের কয়েক সহস্রাধিক গরু ট্রাকের ওপর অসুস্থ হয়ে পড়ে। গরুর রাখালরা তালের হাত পাখা দিয়ে বাতাস করে গরুগুলোকে ঠাণ্ডা করার চেষ্টা করছেন।
বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী আকবর মোল্লা জানান, ঢাকা মেট্রো ট-১৮-৬১৫৭ ট্রাকে গরু নিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পৌঁছায়। শনিবার সকাল ১০টায়ও ওই ট্রাকটি ফেরিতে উঠতে পারেনি। এ ধরনের গরুভর্তি পাঁচ শতাধিক ট্রাক মহাসড়কে সিরিয়ালে রয়েছে।
আরিচা বন্দরের বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম জিল্লুর রহমান শনিবার দুপুরের জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় ১৬টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।