নোয়াখালী সদরে লাশ দাফনের ১১১দিন পর ময়নাতদন্তের জন্য এক গৃহবধূর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোববার দুপুরে উপজেলার উত্তর শুল্লুকিয়া গ্রামের জগা বন্ধুদের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে জেলা প্রশাসেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: তারিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ গৃহবধূর লাশ উত্তোলন করে।

জেলা প্রশাশসেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: তারিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে তিন মাস ২১দিন পর গৃহবধূ মার জাহান বেগমের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো: নুরনবী জানান, সৎ ছেলে মো: সোহাগের স্ত্রী মারজাহান বেগমকে হত্যার অভিযোগে গত ১৬ জুন নোয়াখালীর আমলি আদালতে স্বামী আবদুল খালেক, সৎ ছেলে মো: সোহাগ ও রাজু এবং সৎ মেয়ের স্বামী জামাল উদ্দিনকে আসামি করে মামলা করেন রহিমা বেগম।

গত ৩ এপ্রিল রাতে সৎ ছেলে মো: সোহাগের স্ত্রী মারজাহান বেগমকে হত্যার পর বিষপানে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন মামলার বাদি রহিমা বেগম। তার দাবি, হত্যার বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করায় তাকে দু’মাসের বেশি সময় ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে কৌশলে স্বামীর বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি আদালতে মামলাটি করেন।

এজাহারে বলা হয়, স্বামী, দুই সৎ ছেলে এবং সোহাগের স্ত্রী মারজাহান ও তার তিন শিশু সন্তান নিয়ে রহিমার সংসার। হত্যার কয়েক মাস আগে সোহাগের পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে স্ত্রী মার জাহানের সাথে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এ নিয়ে মার জাহানকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতনসহ মেরে ফেলার হুমকি দিত সোহাগ। গত ৩ এপ্রিল দুপুরে ছেলের বউ মারজাহানকে বাড়িতে রেখে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান রহিমা। মারজাহান বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে রাত ২টা দিকে মোবাইল ফোনে তাকে জানান স্বামী আবদুল খালেক। পর দিন সকালে বাড়িতে ফিরেনি জানতে পারেন সোহাগের পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় আসামিরা মারজাহানকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।

এদিকে, গত ৬ জুলাই ওই মামলার প্রধান আসামি মো: সোহাগকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে সুধারাম থানার পুলিশ। মামলার অপর তিন আসামি এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছেন।

এ মামলার তদন্ত করে অভিযুক্ত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন মামলার বাদি রহিমা বেগম।