দেশে চলছে ১৪ দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ। কঠোর বিধি-নিষেধের চতুর্থ দিনে ঢাকার আশুলিয়ায় সড়ক মহাসড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও ব্যাটারি চালিত রিকশা-অটোরিকশার দৌরাত্ব বেড়েছে। তবে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক, বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়ক এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর, বিশমাইল ও বাইশ মাইল এলাকায় এসব চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া আশুলিয়ার আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার চলাচল ছিল স্বাভাবিক।

সকাল সারে ১০টার দিকে আশুলিয়ার ডিইপিজেডের সামনে কথা হয় অটোরিকশাচালক আব্দুল বারেকের সাথে।

তিনি জানায়, ভোরে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। এরই মধ্যে ৭০০ টাকার মতো ভাড়া মেরেছি। এই লকডাউনে রিকশা নিয়ে না বের হলে খামু কি? আমাদেরতো সংসার আছে। বউ, বাচ্চা আছে। তাদেরকে খেতে দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই লকডাউনে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি।

বেলা সারে ১১টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে আসা জোহা নামের এক পোশাককারখানার কর্মকর্তা জানান, কি করবো অফিসতো আগামীকাল (মঙ্গলবার) খুলবে। তাই আজ চলে আসলাম।

লকডাউনে কিভাবে এতদূর থেকে আসলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাইক্রোবাস, মালবাহি ট্রাক এবং সবশেষে রিকশাযোগে বাইপাইল পর্যন্ত আসলাম। কি করবো চাকরি বাঁচাতে হবে তো। অফিসে যোগদান করতে না পারলে যদি চাকরি চলে যায়! আশুলিয়া পর্যন্ত আসতে তার প্রায় দেড় হাজার টাকা বিভিন্ন পরিবহনের ভাড়া মেটাতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

জোহার মতো আরো অনেককেই গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরতে দেখা গেছে। টাঙ্গাইলের নাগরপুর থেকে ফিরেছেন মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি আশুলিয়ার বুড়ির বাজার এলাকার টেক্সট্রিম নামের একটি কারখানার আইটি অফিসার।

তিনি জানান, তাদের অফিস লকডাউন যত দিন তত দিন বন্ধ। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। ঈদ করলাম পরিবারের সাথে। ঈদ শেষে আবার কর্মস্থল আশুলিয়ায় চলে আসলাম। তবে সড়কে গণপরিবহন নেই। তবে বিভিন্ন স্থান থেকে আসার মতো পরিবহন রয়েছে হরহামেশা। রিকশা, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চলছে সড়কে।

সাভার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ করিম খান বলেন, সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো পালন করা হচ্ছে। যেসব পরিবহন উপযুক্ত কারণ ছাড়া বের হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছি। এছাড়া রিকশা অটোরিকশার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আটকও করা হচ্ছে।

এদিকে, আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহসড়কের আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকায় দেখা গেছে রিকশার জটলা। এগুলো জিরানী বাজার থেকে শ্রীপুর, বলিভদ্র, ইপিজেড, বাইপাইল এবং নবীনগর যাচ্ছে। ভাড়াও স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুন বেশী। আবার শ্রীপুর স্ট্যান্ড, ইপিজেড স্ট্যান্ডেও একই অবস্থা।

বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কের বইপাইল, জামগড়া, ইউনিক, নরসিংহপুরসহ সড়কের বিভিন্ন স্ট্যান্ডে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার দখলে ছিল। এছাড়া এ দু’টি মহাসড়কে বিভিন্ন অযুহাতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেড়িয়েছেন অনেকে।

আশুলিয়ার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় খোলা রয়েছে দোকানপাট, ছোট-বড় খাবার হোটেল, খোলা রয়েছে সেলুন। যথারিতী চায়ের দোকানে আড্ডাতো আছেই। একসাথে গাদাগাদি করে বসে চা খেতে দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকার চায়ের দোকানে। কাচা বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলাচল করছে মানুষ।