রাজবাড়ী জেলার পাঁচ উপজেলায় কঠোর লকডাউনে প্রশাসন সরকারি বিধি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সব শ্রেণীর মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে সবকিছু বন্ধের এ সময় বন্ধ নেই এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায়। এতে কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
জানা গেছে, লকডাউনের চতুর্থ দিন সোমবার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী অফিস খোলা। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী শুধুমাত্র অনলাইনে অফিস কার্যক্রম চলতে পারবে। তবে সেবাখাত ব্যতীত অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ প্রয়োজন ছাড়া কেউ মোটরসাইকেল, থ্রি হুইলার, অটোবাইক নিয়ে বের হলেই আটক করছে। জরুরি সেবা ব্যতীত সকল গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীবাহী ভ্যান, থ্রি হুইলার, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস আটক ও মামলা করা হচ্ছে।
এদিকে সরকারী বিধিনিষেধ অমান্য করে ব্র্যাক, টিএমএসএস, ব্যুরো বাংলাদেশ, এসডিসিসহ বিভিন্ন ধরনের এনজিও তাদের নিয়মিত ঋণ আদায়ে মাঠে রয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছে এনজিও কর্মীরা।
দিনমজুরদের অভিযোগ, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত পরিবহন ধরা পড়লেই আটক করা ও মামলার ভয়ে আমরা বাইরে বের হতে পারছি না। কিন্তু এনজিও কর্মীরা কিস্তির জন্য আমাদেরকে চাপ দেয়ায় বিপাকে পড়েছি। কোনো কাজকর্ম না থাকায় আমাদের দিন চলছে খুব কষ্টে। এর মধ্যে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে আমরা চোখে অন্ধকার দেখছি। নাম না প্রকাশের শর্তে একটি এনজিওর এক মাঠকর্মী বলেন, ঋণের কিস্তি আদায়ে আমাদের উপর চাপ থাকার কারণে বাধ্য হয়েই বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছি। চাকরি না থাকলে আমাদের জীবন চলবে কিভাবে, তাই যাচ্ছি।
একটি এনজিওর শাখা ব্যবস্থাপক বলেন, আমাদের বকেয়া আদায় ও ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ প্রদানকারীদের কাছ থেকে কিস্তি আদায় করা হচ্ছে।



