দীর্ঘ ৫৫ বছর পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলপথ দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। রোববার বিকেল ৫টা ২৬ মিনিটে ভারতের আলিপুর দুয়ার ডিভিশনের ডামডিং রেল স্টেশন থেকে ভারতীয় রেল ইঞ্জিনের মাধ্যমে ৪০টি পাথর বোঝাই ওয়াগন (বগি) হলদিবাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের চিলাহাটি রেলস্টেশনে এসে পৌঁছায়।
চিলাহাটি স্টেশনে পাথরবাহী ওয়াগানগুলো রেখে ভারতীয় ইঞ্জিনসহ গার্ড মুখেশ কুমার, চালক অজিদ রায়, মনজিদ পাল ভারতে ফিরে যান। এ সময় চিলাহাটি রেলস্টেশনে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী ডিবিশনের প্রকৌশলী-২ প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহীম, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হাচান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, ট্রাফিক সার্জন হাবিবুর রহমান, নীলফামারী রাজস্ব কর্মকর্তা অর্নিরবান কুমার শাহা, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আল-আমিন, চিলাহাটি ইমিগ্রশন কর্মকর্তা নূরুল ইসলামসহ রেলওয়ের কর্মকর্তাগণ।
দিনাজপুরের খান অ্যান্ড সন্স এজেন্সির আমদানিকৃত পাথরবাহী ওয়াগানগুলো বাংলাদেশের ইঞ্জিন দিয়ে চিলাহাটি থেকে যশোরের নোয়াপাড়ায় আজ রাতে অথবা আগামীকাল সোমবার যে কোনো সময় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে দীর্ঘ ৫৫ বছর পর এই রেলপথ চালু হওয়া দেখে সীমান্তে দু’বাংলার মানুষ উল্লাসে মেতে ওঠে।
উল্লেখ্য, পাক-ভারত যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ৫৫ বছর পর ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশে চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবড়ি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের উদ্ধোধন করা হয়েছিল। সে সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রেলপথ উদ্ধোধন করেছিলেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি।
এছাড়া চলতি বছরে ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত আন্তঃদের্শীয় যাত্রীবাহী মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্ধোধন করেন।
যাত্রীবাহী ট্রেনটি উদ্ধোধন করা হলেও করোনা পরিস্থিতিতে যাত্রীবাহী ট্রেনের চাকা আপাতত থামিয়ে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দু’দেশের পতাকা উড়িয়ে চলাচল শুরু করবে মিতালী।
১৯৪৭ সালের ভারতের স্বাধীনতার আগে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি দিয়ে সরাসরি কলকাতার রেল যোগাযোগ চালু ছিল। ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধের পর রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।






