মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের কাজিরবাগ গ্রামে এক গৃহবধূকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
এ ঘটনায় রোববার বিকেলে নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বামী মুরাদ সেখকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিষয়টি সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিশ্চিত করেছেন। স্ত্রী হালিমা বেগম (২৫) সিরাজদিখান থানায় নির্যাতনের অভিযোগ এনে একটি মামলা করেছেন।
জানা গেছে, ওই গ্রামের হেলাল শেখের ছেলে মুরাদ শেখ দির্ঘ দিন ধরে তার স্ত্রী হালিমা বেগমকে মারধর করে আসছিল। রোববার সকালে আবার হালিমা বেগম কিল ঘুশি মেরে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করে স্বামী মুরাদ। স্থানীয় মহিলারা বাধা দিলে মুরাদ তাদের চাপাতি নিয়ে মারতে আসে। এ সময় প্রতিবেশী খাদিজা তার মোবাইলে মারধরের দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তা ভাইরাল হয়। পরে স্থানীয় মেম্বার ও লোকজন গিয়ে হালিমাকে উদ্ধার করে ৯৯৯ এ ফোন দেয়।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে হালিমাকে মারধর করে আসছে হেলাল শেখের ছেলে মুরাদ। এর আগে বেশ কয়েকবার পানিতে চুবিয়ে মারার চেষ্টা করছিল। গত শনিবার এ নিয়ে স্থানীয় মেম্বার বিচার করেছে কিন্তু নেশাখোর মুরাদ থামেনি।
ভিডিও ধারণ কারি খাদিজা জানান, মুরাদ হাতে চাপাতি নিয়ে মারধর করে এবং কেউ ধরতে আসলে তাকে চাপাতি নিয়ে মারতে আসে। ভয়ে তাই মুরাদের বিষয়ে কেউ আগায় না।
মালখানগর ইউ পি সদস্য মো: আবু সাঈদ জানান, আমি ঘটনা শুনতে পেরে ঘটনাস্থালে যাই। গিয়ে দেখি মুরাদ হালিমার পেটে, পিঠে ও মুখে কিল ঘুষি মারছে। আমি তাকে উদ্ধার করি এবং মুরাদকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেই।
বাংলাদেশ মানবাধিকার উন্নয়ন কমিশনের মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার চেয়ারম্যান এএন হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, আমরা যেখানে মানবাধিকার হরণ হয় সেখানে আমরা তাদের পাশে দাড়াই। আমরা হালিমার চিকিৎসার কথা বলেছি। তার ভাই বলেছে, তারা চিকিৎসা করবে। যদি তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় আমি সহায়তা করবো।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন স্থানীয় এক মানবধিকার কর্মী আমাকে গৃহবধূর মারধরের বিষয়টি জানালে আমি পুলিশ পাঠিয়ে স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভিকটিম অভিযোগ দায়ের করেছে। আসামি বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে মারধর করতো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।






