মাদারীপুরে নিখোঁজ কলেজছাত্র জিহাদ মাতুব্বরের (২৪) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে সদর উপজেলার মধ্য খাগদী এলাকার একটি পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত জিহাদ মাদারীপুর সরকারি কলেজের ডিগ্রী শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি মাদারীপুর পুলিশ লাইনের ঝাড়ূদার রাজু মাতুব্বরের ছেলে।
স্বজন ও পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার রাতে মাদারীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য খাগদী এলাকার কলেজশিক্ষার্থী জিহাদ মাতুব্বরের সাথে পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথার কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিহাদ রাগ করে রাতেই বাসা থেকে বের হন। পরে আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরিবারের লোকজন রাতেই অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। পরে আজ রোববার দুপুরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে জিহাদের লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে নিহত জিহাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনার রহস্য উদঘাট করে বিচার দাবি করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
জিহাদের বাবা রাজু মাতুব্বর বলেন, ‘আমার ছেলের সাথে কারো শত্রুতা নেই। কিভাবে আমার ছেলে মারা গেছে বুঝতে পারছি না। জিহাদ আমার একমাত্র ছেলে। এভাবে মারা যাবে তাহলে ওর সাথে রাগারাগি করতাম না।’
নিহতের শ্যালিকা তানজিলা ইসলাম তানিয়া বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে বিচারের দাবি করছি। এটি হত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু আমরা এখনই কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। রাতে ঘর থেকে রাগারাগি করে বের হলো আর পরদিন পুকুরের ভেতর লাশ ভেসে উঠলো। এর কারণ সঠিকভাবে অনুসন্ধানের দাবি করছি।
মাদারীপর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: নুরুল ইসলাম বলেন, নিহতের কারণ আগেই বলা যাচ্ছে না। এজন্য ময়নাতদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।






