গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আনসার সদস্য শামিউল ইসলাম (৪০) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে হামলার শিকার হয়ে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মারা যান। এ সময় নারীসহ আরো চারজন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতরা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত শামিউল উপজেলা বেতকাপা ইউনিয়নের মৃত আগজার আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বেতকাপা গ্রামের মেছের উদ্দিনের ছেলে ছাইদার রহমান ও তার ছেলে সাগর মিয়া শ্যালোমেশিন চালিত পাওয়ার টিলার দিয়ে অন্যের জমি চাষ করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় একই গ্রামের কছির উদ্দিনের ছেলে রাজা মিয়া ছাইদারকে তার জমি চাষ করতে বলে।

এ সময় ছাইদার মিয়া ওই জমি পরে চাষ করে দেয়ার কথা বললে রাজা মিয়া ও তার ছেলে খোকন তাতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটে। এরই একপর্যায়ে রাজা মিয়া ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে ছাইদার রহমানের এলোপাথারিভাবে মারপিট করতে থাকে। ছাইদারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরকেও বেধড়ক মারপিট করা হয়।

এ ঘটনায় আনসার সদস্য শামিউল ইসলাম (৪০), ছাইদার রহমান (৫৫), সাগর মিয়া (৩০), মর্জিনা বেগম (৬২) ও শাহানুর বেগম (৫০) গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গাইবান্ধা সদর হাসপাতলে ভর্তি করায়। সেখানে শামিউলের অবস্থা অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তিনি মারা যান।

থানা অফিসার ইনচার্জ মো: মাসুদ রানা জানান, তিনিসহ সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) উদয় কুমার সাহা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে ১২ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।