আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দু’গ্রামের জলাবদ্ধতা ও কৃষকদের রক্ষায় কাউনিয়া খালের বাঁধ কেটে দিলেন চেয়ারম্যান মো: আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক।

শুক্রবার দুপুরে ওই খালের ছয়টি স্থানের বাঁধ কেটে দেন তিনি। এতে দু’গ্রামের ১০ হাজার একর জমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেল। বাঁধ কেটে দেয়ায় আনন্দিত ওই এলাকার কৃষকরা।

জানা যায়, আমতলী উপজেলা হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া ও গুরুদল গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত কাউনিয়া খাল। প্রবাহমান ওই খালটি স্থানীয় প্রভাবশালী নান্নু মোল্লা গত ১০ বছর ধরে অবৈধ ভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। ওই খালের পাঁচটি স্থানে বাঁধ ও একটি কালভার্টের মুখে জাল দিয়ে আটকে দেয়ায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায়। পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জলাবদ্ধতার ফলে ওই এলাকায় জমি চাষাবাদ বন্ধ ছিল। এতে প্রায় ১০ হাজার একর জমি অনাবাদী থাকার আশঙ্কা ছিল।

সরকারি খালের বাঁধ অপসারণ করে পানি সরবরাহ সচল করতে এবং জমি চাষাবাদ করতে কৃষকরা গত মঙ্গলবার আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও মো: আসাদুজ্জামান উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিমকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম কাউনিয়া খালের বাঁধ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বাঁধ কেটে কৃষকদের জমি রক্ষার সুপারিশ করেন।

শুক্রবার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিকের নেতৃত্বে শতাধিক কৃষক কাউনিয়া খালের ছয়টি বাঁধ কেটে দেন। বাঁধ কেটে দেয়ার হলদিয়া ও গুরুদল গ্রামের জলাবদ্ধতার নিরসন হয়। এতে ওই দু’গ্রামের ১০ হাজার একর জমি চাষাবাদে আর সমস্যা হবে না বলে জানান ওই এলাকার কৃষকরা।

কৃষক রুহুল আমিন প্যাদা বলেন, কাউনিয়া খালের সকল বাঁধ কেটে দেয়ার জমি চাষাবাদে আর সমস্যা নেই। আমরা জমি চাষ করতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, বাঁধ কাটায় ওই এলাকার কৃষকরা আনন্দিত।

বরগুনা জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফ-উল হাসান আরিফ বলেন, খালে বাঁধ থাকায় বৃষ্টির পানিতে দু’গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শুক্রবার গ্রামবাসীদের সাথে বাঁধ কেটে জলাবদ্ধ মুক্ত করা হয়েছে।

আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে শতাধিক কৃষক নিয়ে কাউনিয়া খালের ছয়টি বাঁধ কেটে দিয়েছি। এতে দু’গ্রামের অন্তত ১০ হাজার একর জমি চাষাবাদের সমস্যার সমাধান হয়েছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম বলেন, তদন্ত করে কাউনিয়া খালের বাঁধ কেটে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ওই সুপারিশ মতে ইউপি চেয়ারম্যান মো: আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিকের নেতৃত্বে শতাধিক কৃষক বাঁধ কেটে দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, বাঁধ কেটে দেয়ার জমি চাষাবাদের আর কোনো সমস্যা নেই।