লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সাবেক স্ত্রীর দ্বিতীয় স্বামীর দায়ের করা মামলায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে কারাগারে সাজা ভোগ করছেন উপজেলার উত্তর সাইচা গ্রামের বিদেশফেরত নিজাম বেগ। এ ঘটনায় নিজের মা ও তার দ্বিতীয় স্বামীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন নিজাম বেগের ছেলে আরাফাত বেগ। এর আগে তিন সন্তানকে রেখে প্রায় ২৫ বছরের একটি সংসার ভেঙে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যান হাছনা আক্তার ফেন্সি নামের ওই নারী।
১৯৯২ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর সাইচা গ্রামের মফিজ উদ্দিন বেগের ছেলে নিজাম বেগের সাথে একই গ্রামের শরিফ মিঝির মেয়ে হাছনা আক্তার ফেন্সির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে কাউছার বেগ ও আরাফাত বেগ নামে দুই ছেলে এবং পিহানা ইসলাম নিহা নামে এক মেয়ের জন্ম হয়। সৌদি প্রবাসী নিজাম বেগ কয়েক বছর পরপরই ছুটিতে দেশে এসে পরিবারকে সময় দিয়ে যেতেন। কিন্তু এরই মধ্যে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তার স্ত্রী। তিন সন্তান, প্রায় ২২ বছরের সংসার ও সামাজিক মর্যাদার তোয়াক্কা না করে ২০১৪ সালের শেষ দিকে তিনি গোপনে প্রবাসী স্বামীকে তালাক দেন। এক মাসের মধ্যে প্রতিবেশী ইউছুফ আলী পাটওয়ারীকে বিয়ে করেন। কিন্তু এর পরও তালাক দেয়া স্বামীর ঘরে অবৈধভাবে প্রায় তিন বছর বসবাস করেন। এ সময় তিনি প্রবাসী নিজাম বেগের টাকা, ব্যাংক চেক ও স্বর্ণালঙ্কারসহ ১৮ লক্ষাধিক টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন। পরকীয়া, বিয়ে ও সম্পত্তি আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানি হলে ২০১৭ সালে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে পালিয়ে যান ফেন্সি। পরে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে নিজাম বেগ যাতে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ না পান, সে জন্য তার নামে চেক জালিয়াতি মামলা করে একতরফা রায় আদায় করতে সক্ষম হন ফেন্সি ও তার দ্বিতীয় স্বামী ইউছুফ। জানা গেছে, ইউছুফ আলী পাটওয়ারী রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের ওয়াহেদ আলী পাটওয়ারী বাড়ির মৃত আবদুল লতিফের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, চেক জালিয়তি মামলায় সোনালী ব্যাংকের একটি খালি চেকের বিনিময়ে ইউছুফ আলীর কাছ থেকে ৪৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগ আনা হয় প্রবাসী নিজাম বেগের বিরুদ্ধে। পারিবারিক ব্যয় মেটানোর জন্য খালি চেকে স্বাক্ষর করে চেক বই রেখে গেছেন স্বামী নিজাম বেগ আরো আগেই।
এ দিকে নিজাম বেগের ছেলে আরাফাত বেগ বাদি হয়ে নিজের মা হাছনা আক্তার ফেন্সি ও তার দ্বিতীয় স্বামী ইউছুফ আলী পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
আইনজীবী মনোয়ার হোসেন পেয়ারু বলেন, আদালতের রায়ের বিপক্ষে আপিল করতে ২৩ লাখ টাকা আদালতে জামানত রাখতে হতো। এক দিকে রায়ের ব্যাপারে না জানা, অন্য দিকে ২৩ লাখ টাকার জামানত দিতে অক্ষমতার কারণে নিরপরাধ এই প্রবাসীকে কারাভোগ করতে হচ্ছে। বর্তমানে বিচারাধীন মামলাটির রায় আমাদের পক্ষে এলেও আগের মামলাটির রায় থেকে নিস্তার পেতে হাইকোর্টের বিশেষ সুদৃষ্টি প্রয়োজন বলে তিনি জানান।



