খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভায় নেই পর্যাপ্ত সড়কবাতি। রাত হলেই অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় পৌর শহর। স্থানীয়দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আলোই শেষ ভরসা। পুরো পৌরসভার বেশির ভাগ সড়কে নেই বাতি। বিদ্যুৎ চলে গেলে ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে প্রতিনিয়ত রাতের বেলায় চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পৌরবাসীকে। একইসাথে ছিনতাই, ধর্ষণ ও গুম-খুনের আতঙ্ক বাড়ছে শহরবাসীর মাঝে।
জানা যায়, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রামগড় পৌরসভা। কাগজে কলমে দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা এটি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও পৌরসভায় ২১ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে ১৬ বর্গ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় কোনো সড়ক বাতি নেই। আর সরকারি কার্যালয়গুলোর সামনে সড়কবাতি দেখা গেলেও এর বেশির ভাগ নষ্ট।
সরেজমিনে রাত ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পুরো পৌরসভা ঘুরে দেখা যায়, রামগড় পৌরসভা থেকে মূল বাজার পর্যন্ত কয়েকটি সড়কবাতি থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। পৌর ভবন থেকে দূরের বাজারগুলোতে নেই কোনো সড়কবাতি। রামগড় পৌরসভা থেকে বর্তমান পৌর মেয়রের বাড়ি পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় একটি সড়কবাতিও নেই। পৌর মেয়রের বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে সোনাইপুল বাজার পর্যন্ত কয়েকটি সড়কবাতি থাকলেও সোনাইপুল বাজারের পর থেকে বাগানটিলা ও বলিপাড়া পর্যন্ত চার কিলোমিটারে কোনো সড়কবাতি নেই। একইভাবে রামগড় উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের পর থেকে বল্টুরাম বাজার ও জগন্নাথ পাড়া পর্যন্ত একটি সড়কবাতিও নেই।
পৌর শহরের রোগাপাড়া, মহামুনি, চৌধুরীপাড়া, আনন্দপাড়া সুকেন্দ্রপাড়া, পাইন্দাংপড়া, বাগানটিলা, তৈছালাপাড়া, ফেনীরকুল, নজিরটিলা এলাকায় সড়কবাতির কোনো সুবিধা পাচ্ছে না পৌরবাসী। আবার শহরের প্রধান সড়কগুলোর পাশে নির্মিত বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সড়কবাতি দেখা গেলেও বেশির ভাগই জ্বলছে না।
রামগড় পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড তৈছালাপাড়ার কাউন্সিলর মোহাম্মদ শামীম জানান, তার এলাকায় বিজিবি ক্যাম্পের সামনে কয়েকটি সড়কবাতি রয়েছে। এছাড়া পুরো এলাকায় কোনো ড়কবাতি নেই। মেয়রকে এ বিষয়ে বারবার জানানো হয়েছে। মেয়র শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়ে গেছেন। ফলাফল শূন্য।
রামগড় পৌর শহরের ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান মতি জানান, রামগড় বাজারেও যথেষ্ট সড়কবাতি নেই। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আলোতে চলাচল করতে হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে শহরে একপ্রকার ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রামগড় মধ্যবাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রেতা জানান, রামগড় বাজারে কয়েকটি সড়কবাতি থাকলেও বাজারের ভেতরের দিকে কোনো সড়কবাতি নেই। আলো না থাকায় রাতের বেলায় প্রসাধনী সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায় অনেকে।
ফেনীরকুল এলাকার বাসিন্দা জয়নাল মিয়া জানান, রামগড় পৌরসভার পর থেকে মেয়রের বাড়ি পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় কোনো সড়কবাতি নেই। অন্ধকারে আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় বলে জানান তিনি।
রামগড় পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সমর কান্তি মজুমদার জানান, সড়কবাতির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সড়ক বাতি লাগিয়ে দেয়া হবে।
রামগড় পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আহসান উল্ল্যাহ জানান, সড়কবাতি না থাকায় মানুষের দুর্ভোগের কথা তিনি শুনেছেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় বরাদ্দ পেতে বিলম্ব হয়েছে। এখন দ্রুত সড়কবাতি লাগিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।



