পুলিশের তৎপরতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিবিয়ায় জিম্মি দশা থেকে এক প্রবাসীকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ জেলা পুলিশ লাইনস ড্রিলশেডে সংবাদ সন্মেলনে একথা জানান নওগাঁ পুলিশ সুপার। ভিকটিম দীপুর সাথে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করে জানা যায়, তিনি এখন বিপদমুক্ত ও সুস্থভাবে জীবনযাপন করছেন। ভিকটিমসহ তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া জানান, দীপু হোসেনের (২৭) বাবা মৃত মোজাম্মেল হক। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ সদর থানার সাহাপুরে (মাস্টারপাড়া)। আট বছর ধরে লিবিয়াতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত আছেন। দীপু হোসেন আরো উন্নত জীবনযাপনের আশায় লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য চেষ্টাকালীন একটি সঙ্ঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের খপ্পরে পড়েন। দীপুকে গত ১৪ আগস্ট লিবিয়া প্রবাসী ইয়াসিন মিয়া ও কামাল হোসেনসহ আরো কয়েকজন মানবপাচারকারী সাগরপথে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। পরে লিবিয়ার কোনো অজ্ঞাতস্থানে আটক করে রাখে। একপর্যায়ে সঙ্ঘবদ্ধ মানবচক্র পাচার দলের সদস্যরা দীপুকে মারধর করে ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না পেলে অপহরণকারীরা দীপুকে হত্যা করে সাগরের পানিতে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়।
মানবপাচার চক্রের সদস্যরা মুক্তিপণের টাকা বাংলাদেশে তাদের সহযোগী আটক নাভিদ হাসান (২১) ও কামাল হোসেনের (৩৮) কাছে বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে বলে। এর মধ্যে নাভিদ হচ্ছেন কুমিল্লার চান্দিনা থানার আটচাইল মিয়াজী বাড়ির মৃত হিরন মিয়ার ছেলে। আর কামাল হোসেন একই উপজেলার লেবাশ প্রধানিয়া বাড়ির মৃত আবু তাহেরের ছেলে।
পুলিশ জানায়, অসহায় পরিবারটি নওগাঁ সদর মডেল থানায় আশ্রয় নিলে দীপুর বড় ভাই মতিউর রহমান বুলুর (৪২) লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের হয়।
পরে পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়ার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ কে এম মামুন চিশতী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) গাজিউর রহমান, নজরুল ইসলাম জুয়েল, অফিসার ইনচার্জ, এসআই নাজমুল জান্নাত শাহ ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই রবিউল ইসলাম, এএসআই শরিফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আর্ন্তজাতিক মানবপাচার চক্রের বাংলাদেশের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে। আসামিদেরকে গ্রেফতারের সাথে সাথে জিম্মি থাকা ভিকটিম দীপুকে লিবিয়ায় মানবপাচার চক্রের অন্য সদস্যরা ছেড়ে দেয়। ঘটনার সাথে জড়িত মানবপাচার চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।



