পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে ঈশ্বরদীর নদী তীরবর্তী মানুষেরা চরম বিপর্যের মধ্যে পড়েছে। নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে তলিয়ে গেছে বসত বাড়ি, মৌসুমী সবজি, আখক্ষেত, গরু-মহিষ, গ্রামীণ রাস্তাঘাট এমনকি নদী রক্ষা বাঁধ। ফলে ওইসব এলাকায় স্বাভাবিক জীবন যাপনে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। দেখা দিয়েছে পশু খাদ্যের অভাব।
পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে ঈশ্বরদী উপজেলার চরধাপাড়ী মৌজার মোল্লা পাড়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে বিশুদ্ধ পানি ও চুলা জ্বালিয়ে রান্না করতে না পারায় তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে বহুগুণ। এ ছাড়া চরগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যের চরম সঙ্কট দেখা দেয়। গো-খাদ্যের অভাবে গবাদিপশু নিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বন্যাকবলিত চরের মানুষদের।
ঈশ্বরদীতে প্রতিদিনই বাড়ছে পদ্মার পানি। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে এখন প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ১২ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। শনিবার দুপুরে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা পাওয়া গেছে ১৪ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার। পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদ সীমা ১৪ দশমিক ২৫ মিটার।

গত শুক্রবার থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার বিপৎসীমা থেকে মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে জোয়ারের পানি। আগের দিন শুক্রবার দুপুরে এখানে পানির উচ্চতা পাওয়া গেছে ১৪ দশমিক ১৭ মিটার। যা এই পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলম চৌধুরী জানান, পদ্মা নদীতে এবার অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের পাকশী হাডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অথচ আজ শনিবার ১৪ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পাবনা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট ছিল ১৩ দশমিক ৫৭, ১৬ আগস্ট ১৩ দশমিক ৭০, ১৭ আগস্ট ১৭ দশমিক ৭৯, ১৮ আগস্ট ১৩ দশমিক ৯১, ১৯ আগস্ট ১৪ দশমিক ৯, ও ২০ আগস্ট ছিল ১৪ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার।
এ দিকে শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের সাড়া ঝাউদিয়া, মাজদিয়া ইসলাম পাড়া, মাজদিয়া বড় পাড়া, শেখেরচক, আড়মবাড়িয়া ও গোপালপুরসহ কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ব্লকের বাঁধের উপর দিয়ে পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। গোপালপুর গ্রামের সাইদুলের মল্লিকের বাড়ি ও দোকানে, আরজু ও ইসরাইলের বাড়ির আঙ্গিনাসহ অনেকের বাড়ি ঘরে প্রবেশ করেছে।
এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে মৌসুমী সবজি মুলা, লাউ, কুমড়া, ঢেড়স ও আখক্ষেত পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাষিরা।
নদী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাজদিয়া ঘোষ পাড়া এলাকার রুহুল আমিন ও কামাল হোসেনের ঢেড়স ক্ষেত এবং মাজদিয়া পশ্চিম খাঁ পাড়ার সাবেক অধ্যক্ষ রফিউদ্দিনের মুলার জমি তলিয়ে গেছে জোয়ারের পানিতে। পানিতে ভেষে গেছে মাজদিয়া বড় পাড়া, তলিয়ে গেছে আখক্ষেত ও রিপন ও আজিবর নামে কৃষকের মুলার জমি।
কৃষক রিপন জানায়, আমি বর্গাজমিতে চাষাবাদ করি এ বছর বার বার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ায় আবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, এবার মুলা চাষ করেছি মুলা ভালোই হয়েছে আমরা খুশি হয়েছিলাম। হয়ত এবার ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। কিন্ত এবারো ক্ষতির আশঙ্কা করছি।



