উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছন্ন দুর্গম চর এলাকার অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বন্যার শঙ্কায় অনেক পরিবার গৃহপালিত প্রাণীগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। শনিবার সকাল হতে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। যদিও তিস্তা নদীর পানি সুন্দরগঞ্জ এলাকায় এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে দ্রুতই পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়রা বন্যার আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে উপজেলায় পানি পরিমাপের কোনো পয়েন্ট নেই। তবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পানি পরিমাপ পিলারে দেখা গেছে, পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কিন্তু এরই মধ্যে উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তার বিভিন্ন শাখানদী পানিতে থৈথৈ। চরাঞ্চলে বসবাসরত পরিবারগুলো ইতোমধ্যে নৌকা দিয়ে যাতায়াত শুরু করেছে।

রোববার বেলকা নবাবগঞ্জ চরের একরামুল হক জানান, দু’দিন ধরে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করায় এখন নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। নিচু এলাকার বসত বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পানি বিপৎমসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে বন্যার কবলে পড়তে হবে চরের কয়েক হাজার পরিবারকে।

হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান জানান, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। পানি যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে তিন-চার দিনের মধ্যে বন্যা দেখা দেয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিফ মন্ডল জানান, নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে বসতবাড়িতে পানি উঠেনি। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।