রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি বাড়ছে। এ মাসের ১৭ তারিখ থেকে পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সপ্তাহ জুড়ে পানি বাড়তে থাকায় উপজেলার চরাঞ্চল ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

জানা যায়, গত সপ্তাহে দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছিল। এছাড়া চলতি সপ্তাহে প্রতিদিনই পানি বাড়তে থাকায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার সিদ্দিক কাজী পাড়া, ছাত্তার মেম্বর পাড়া এলাকার মানুষের মাঝে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১,২,৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তেনাপচা, চর দেলুনদী, আতর চেয়ারম্যান পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে পানি উঠে গেছে।

গত বছরও এ অঞ্চলে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে গেছে। এতে উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়েছিল।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার পাঁচ শ’ পরিবার ভিটে মাটি হারিয়ে সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবারো সামনে পূর্ণিমার আগে পানি বাড়তে থাকায় চর অঞ্চলবাসীর মনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দেখা গেছে পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে বাড়ির চার দিকে পানি থৈ থৈ করছে।

কোনো কোনো বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অন্তার মোড় এলাকার চর বরাট গ্রামের আ: খা বলেন, গত রাত থেকে আমার বাড়িসহ আশপাশ এলাকার ১৫ থেকে ২০টি বাড়িতে পানি উঠেছে। ২০ নম্বর তেনাপচা ও চর দেলুনদী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয় মাঠে পানি দেখা যায়। এছাড়া দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাটাখালী, তেনাপচা, চর বেতকা, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার সিদ্দিক কাজী পাড়া, ছাত্তার মেম্বর পাড়া ও উজানচর ইউনিয়নের বন্যায় প্লাবিত এলাকাবাসীর আতঙ্কে রয়েছে।

চর দেলুনদী গ্রামের হালিমন বিবি বলেন, করোনায় কাম নাই। কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। টাকা পাবো কোথায়। মাটি কাটবো কি দিয়া। বাড়ি উঁচু করতে টাকা লাগে। প্রতিবছর বন্যা এলেই বাড়িতে পানি ওঠে। বন্যার সময় রাস্তায় থাকতে হয়।

উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ পাঠক সালমা খাতুন জানান, দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে গত ১৭ আগস্ট থেকে রোববার পর্যন্ত এ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা চেয়ারম্যান মো: মোস্তফা মুন্সি জানান, দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অনেক বাড়ি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। গ্রামগুলো আমি ঘুরে দেখেছি। ওই এলাকার মানুষের সাহায্যের জন্য আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, যে কোনো সমস্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে।