সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের হাওর অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা জন্য একমাত্র উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দরজায় তালা ঝুলছে। তালা খোলার জন্য দায়িত্বশীল লোক নেই। ফলে ১৫টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এতে করে গ্রামের মানুষ হাতুরে ডাক্তারের অপচিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের শ্রীপুরবাজার সংলগ্ন হাওর পাড়ে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবস্থান।

স্থানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার টাংগুয়ার হাওর পাড়ের শ্রীপুর গ্রামে স্থাপিত শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র। চিকিৎসাকেন্দ্রটির দরজায় ঝুলছে তালা। এতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত এই ইউনিয়নের ছিলানী তাহিরপুর, জয়পুর, ইসলামপুর, জয়পুর নতুনহাটি, গোলাবাড়ি, শ্রীয়ারগাও, মুজরাই, মন্দিয়াতা, মইয়াজুরী, কামালপুর, মন্দিয়াতা কান্দাহাটি, তরংশ্রীপুর, শিবরামপুর, কালা শ্রীপুর, নয়াবন্দ, কামালপুর গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রর সূত্রে জানা যায়, এ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন এমবিবিএস, একজন কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন এমএলএস, এসসহ মোট চারটি পদে জনবল থাকার কথা। তবে পদগুলো খালি রয়েছে। একজন এমবিবিএস ও একজন মেডিক্যাল অফিসার কাগজে কলমে থাকলেও দেখা পাওয়া যায় না।

স্বাস্থকেন্দ্রটির পাশের বাসিন্দা শাকিল মিয়া জানান, এ অঞ্চলের অর্ধলক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসাস্থল এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। বর্তমান করোনা প্রাদুর্ভাবে এমনিতেই মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে তালা ঝুলছে। হাওর পাড়ের জনগোষ্ঠীর সাথে উপজেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

আলামিন মিয়া ও হোসেন মিয়াসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই করোনার মধ্যে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার নিয়োগ না দেয়ায় এতে তালা ঝুলছে। যা খুবই দুঃখজনক। তাই দ্রুত জনস্বার্থে জনবল নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা চালুর দাবি জানাই।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ আবু আহমেদ শাফী জানান, আমি নতুন যোগদান করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তবে জনবল সঙ্কট থাকায় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সঠিক সেবা দিতে পারছে না। এই বিষয়টি ঊর্ধবতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রায়হান কবির বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন শামস উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।