চুয়াডাঙ্গায় শিশুদের নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার পর্যন্ত পাঁচ দিনে প্রায় প্রতিদিনই ৫০ থেকে ৬০ শিশু ভর্তি ছিল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। অথচ এই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যার সংখ্যা রয়েছে মাত্র ১৫টি। অতিরিক্ত ১০টি শয্যা যোগ করে বর্তমানে শয্যা সংখ্যা ২৫টি। প্রয়াজনীয় সংখ্যক বেড না থাকায় হাসপাতালের বারান্দায়, সিঁড়ির নিচে বিছানা পেতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে শিশুদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ আছেন দু’জন। ওয়ার্ডে সর্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকেন একজন করে নার্স। শিশুদের নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ায় রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

রোববার সকালে সরেজমিনে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ‘হাসপাতালের পুরান ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে প্রয়াজনীয় সংখ্যক বেড না থাকায় রোগী গাদাগাদি করে ওয়ার্ডের মেঝেতে, বারান্দায় ও সিঁড়ির কাছে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রোগীর পাশাপাশি স্বজনদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে হাসপাতালে। পাটি ও চাদর বিছিয়ে অসুস্থ শিশুকে নিয়ে বসে আছেন মায়েরা। এতে নিউমোনিয়ার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বেড (শয্যা) রয়েছে ২৫টি। আর একটি কেবিন থাকলেও বিপরীতে রোববার বিকেল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিল ৬০ জন। এদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ২১৮ জন শিশু। একই সময়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ২০ জন, এর মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১০ জন। আগের দিন শনিবার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ১৭ জন, এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগী আট জন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর শিশু ওয়ার্ডে নতুন ভর্তি হয় ১২ জন, এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর পাঁচজন। আগের দিন বৃহস্পতিবার ভর্তি হয়েছে ১৮ জন। এর মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর ছয়জন। এ ছাড়া চলতি মাসের প্রথম দিন বুধবার শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি হয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সাতজন।

হাসপাতালের জুনয়ার শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মাহাবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর ভিড় প্রতিদিনই বাড়ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১৬০ থেকে ২২০ জন পর্যন্ত শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশি। নিউমোনিয়ায় আক্রান্তদের সেরে উঠতেও দেরি হচ্ছে। কারো কারো ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১৪ দিন লেগে যাচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স সঙ্কট থাকায় রোগীর চিকিৎসা দিতে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরেই এ অবস্থা চলছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা: এ এস এম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘কয়েক দিনের টানা বর্ষা ও আবওহাওয়ার হঠাৎ হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে শিশুরা নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের ডাক্তার ও নার্স রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। বেড কম থাকায় তাদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। তবে আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে।’