চিকিৎসার অভাবে বাসচালক মিজান মারা গেছেন অভিযোগে চাঁদপুরের সাথে বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা। সোমবার ভোর ৫টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখে তারা। এদিকে বাস চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। তারা পৌর বাস টার্মিনালের কিছু অংশ ভাংচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

গতকাল রোববার চাঁদপুর সদরের চাঁদখার বাজার এলাকায় পদ্মা বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে এক শিশু নিহতসহ আহত হন বাসের ১০ যাত্রী। গুরুতর আহত হন বাসের চালক মিজান মোল্লা (৩৫)। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ওই দিন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজান মারা যান।

বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়া এবং চাঁদপুর পৌর বাস টার্মিনালে অবকাঠামো সমস্যাসহ পরিবহন নেতাদের পদত্যাগ ও দাবি-দাওয়া আদায়ে বাস চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করে বাস শ্রমিকরা।

এদিকে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই সুযোগে সিএনজি, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারসহ অন্য যানবাহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে চালকরা। সমস্যা সমাধানে বাসমালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে বসেছেন পুলিশ প্রশাসন।

বাসচালকরা বলেন, আজ আমাদের এক বাসচালক ভাই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। তার কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি পরিবহন নেতারা। এমনকি তার জানাজায়ও আসেননি তারা। তাদের কারণে পৌর বাস টার্মিনালের কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। তারা আমাদের কষ্টের টাকা আত্মসাৎ করছে। মিজানের মতো অনেকেই বিনা চিকিৎসা এবং সহযোগিতার অভাবে মারা গেছেন। আমরা পরিবহন নেতাদের পদত্যাগ দাবি করছি। আমাদের সকল দাবি-দাওয়া মেনে না নিলে আমাদের বিক্ষোভ চলবে।

দুর্ঘটনায় এক চালক নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ ও বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। তাদের অভিযোগ, চালক মিজান বিনা চিকিৎসা ও সহযোগিতার অভাবে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ।