কুমিল্লা দেবিদ্বারে মাজেদা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূর পা বাঁধা ও কাদাযুক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ফতেহাবাদ গ্রামের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম সরকারের বসতঘরে তার লাশ পাওয়া যায়।
প্রতিবেশী হান্নান সরকার বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বাড়ির প্রধান গেট খোলা দেখে বাড়ির ভেতরে ঢুকে ভাবীকে ডাকতে থাকি। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের সামনে গিয়ে দেখি দরজা খোলা। পর্দা টেনে দেখি তার কাদামাখা ও পা বাঁধা লাশ শরীর পড়ে আছে। আমার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, নিহত গৃহবধূ মাজেদা বেগম (৫২) দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মা। স্বামী প্রায় ৩২ বছর আগে মারা গেছেন। মেয়েরা থাকে স্বামীর বাড়িতে আর ছেলেরা কর্মস্থলে। তাই তিনি নির্জন এ বাড়িতে একাই থাকতেন। প্রায় সাত-আট বছর আগে ফতেহাবাদ মতিউল্লাহ সরকার বাড়ি থেকে এসে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।
প্রতিবেশী আমেনা বেগম জানান, এলাকায় উঠতি মাদকাসক্ত তরুণ-যুবকদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। অর্থের জন্য ওরা এমন কাজ করতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। নিহত গৃহবধূর গলার স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, হাতে চিকন চুড়ি ছিল, সেগুলো নেই। লাশের পাশে একটি বালিশ পড়ে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে ওই বালিশ দিয়ে তাকে শ^াস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিষয়টি পুলিশের সঠিক তদন্তে বেড়িয়ে আসবে। এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে পা বেঁধে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।