ঢাকার আশুলিয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর পাশের বাড়ির সিড়ির নিচ থেকে রবিউল ইসলাম (১০) নামে এক মাদরাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুর ১টার দিকে আশুলিয়ার দুর্গাপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ভাড়া বাড়ির সিড়ির নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা ছেলে নিখোঁজের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
নিহত রবিউল ইসলাম পাবনার সাথিয়া থানার ধোপাদাও এলাকার সুমন হোসেনের ছেলে। রবিউল আশুলিয়ার কাঠগড়া দূর্গাপুর এলাকার আল আমিন শেখের ভাড়া বাসায় মা-বাবার সাথে থেকে স্থানীয় কাশেমিয়া মাদরাসার নূরানী বিভাগে পড়ালেখা করছিলেন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে বাইরে যায় রবিউল। এ সময় তার মা গার্মেন্টে ছিলেন আর ইজিবাইকচালক বাবাও বাইরে ছিলেন। পরে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর জানতে
পারেন রবিউল পাশের বাসার কলিম উদ্দিন মাঝির বাড়িতে সাড়ে ১১টার দিকে গিয়েছিল। সেখানে উপস্থিত বাড়ির মালিক আল আমিন শেখ ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন জানায়, রবিউল কোথায় গেছে তারা জানেন না।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, বাড়িওয়ালা আল আমিনের কাছে ধারের টাকা পায় রবিউলের বাবা সুমন। ওই টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন সময় হুমকি দিতো। এরই জের ধরে আল আমিন তার ছেলেকে আত্মগোপন করে রেখেছে।
স্থানীয়রা জানায়, রোববার সকালে ওই বাসার ভাড়াটিয়ারা সিড়ির নিচ নিচ থেকে দূর্গন্ধ পেলে সিড়ির নিচে গিয়ে দেখে বস্তা দিয়ে একটা লাশ ঢাকা রয়েছে। পরে বিষয়টি ৯৯৯-এ কল দিয়ে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিযে লাশ উদ্ধার করে।
আশুলিয়া থানার এসআই আল মামুন কবির বলেন, সিড়ির নিচ থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার পরিবারের মাধ্যমে লাশটি রবিউল নামে এক শিশুর বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।






