রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে তৃণমূলের নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের দিয়ে গঠনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের মরহুম সভাপতি নুরুল আমিন বিশ্বাসের ছেলে মো: আলমগীর বিশ্বাস।

সোমবার বিকেল ৪টায় বালিয়াকান্দি উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আলমগীর বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, আমি সাবেক সভাপতি, বালিয়াকান্দি উপজেলা ছাত্রলীগ, সাবেক জিএস, বালিয়াকান্দি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদ, সভাপতি, শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ, সভাপতি, বালিয়াকান্দি উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও গোরস্থান কমিটি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক উপজেলা ছাত্রলীগ। আমার বাবা মরহুম নুরুল আমিন বিশ্বাস ২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে বালিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করাসহ বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ ২৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। আমার মা খোদেজা বেগম, বালিয়াকান্দি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভানেত্রী ও পরপর ২ বার বিপুল ভোটে নির্বাচিত উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমার বাবা নুরুল আমিন বিশ্বাসকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রদান করেও রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: জিল্লুল হাকিম তার বিরোধিতা করে পরাজিত করেন। ১৯৭১ সালের পর থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে নিজের সমস্ত অর্থ দলের জন্য দু’হাত ভরে খরচ করেছেন আমার বাবা। আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর থেকেই আমাকে ও আমার পরিবারের কোনো সদস্যকে আওয়ামী লীগের কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। বরং দিনের পর দিন আমি ও আমার পরিবারকে ধ্বংস করতে নানা ধরণের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে।

তিনি বলেন, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজন অশিক্ষিত ও কালোবাজারী নায়েব আলীর কাছে বিপুল অর্থের বিনিময়ে নৌকা প্রতীক বিক্রি করে ও আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেন এমপি জিল্লুল হাকিম। পরে নেতা-কর্মীদের চাপ প্রয়োগ করে আমার বিরোধিতা করার পরও আমি অল্প কিছু ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হই।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি বালিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কমিটিতে নৌকা প্রতীকের বিরোধিতাকারী, বিএনপি-জামায়াত থেকে অনুপ্রবেশকারী ও এমপির অনুসারীরাই শুধু স্থান পেয়েছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মী ও আমার পরিবারের কোনো সদস্যকেই প্রাথমিক সদস্য হিসেবেও রাখা হয়নি। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: জিল্লুল হাকিমের চাচাতো ভাই এহসানুল হাকিম সাধন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতাকারীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরোধিতাকারী এহসানুল হাকিম সাধন চাচাতো ভাই হওয়ার সুবাদে তাকে পুরস্কার স্বরূপ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কমিটিতে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, উপজেলার ঠিকাদারী কাজের সিংহ ভাগ কাজই এহসানুল হাকিম সাধন, তার পরিবারের সদস্য ও বালিয়াকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: নায়েব আলী শেখকে দিয়ে করিয়ে থাকেন। উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সভাপতি, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক ভিপি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: হারুন অর রশিদ মানিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, নারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও নারুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মাস্টার, জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইউনুছ আলী সরদার, জামালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিয়া, নারুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক মন্ডল, বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী খান, জামালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল বিন খালেক, বহরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো: খলিলুর রহমান খান, নবাবপুরের এম এ কুদ্দুস, আলমগীর মোল্যা, হাসানুর রহমান কবির, শাহনৈওয়াজ, ফরিদ মোল্যাসহ অসংখ্য তৃণমূল আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা দলের সদস্য পদও পাননি। তাদেরকে বাদ দিয়েই ইচ্ছামতো কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী বহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, ইসলামপুরের আহম্মদ আলী মাস্টার, তৌহিদুল ইসলাম, বহরপুরের আবুল কালাম আজাদ, হাজী মকবুল হোসেন, জঙ্গলের অরবিন্দু বিশ্বাস, বালিয়াকান্দির মোফাজ্জেল হোসেন মিঠু, নারুয়ার সিরাজুল ইসলাম খান, জামালপুরের আলীনুর, তালেব আলী, আ: রব, কিউ আর মহব্বত, বহরপুরের আরব আলী ও বাবুসহ বিএনপির নেতা-কর্মীদেরকে বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দলের নৌকা প্রতীক দেয়াসহ দলে টেনে পদ দিয়েছেন। এমনকি বাংলাদেশ যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মনির আস্থাভাজন ও কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক বাংলারবানীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই আবুল কালাম ফকিরকে বাদ দিতে একটুও কারপন্য করেননি।

তিনি বলেন, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: জিল্লুল হাকিম, তার স্ত্রী সাহিদা হাকিম, ছেলে আশিক মাহমুদ মিতুল হাকিমের অনুসারী ছাড়া কাউকেই কোনো পদে রাখা হয়নি। এটি মনে হচ্ছে- হাকিম লীগের কমিটির। এখানে কোনো নির্যাতিত তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের স্থান নেই।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি ঘোষণা করেছেন তৃণমূল আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠনের। কিন্তু আজ বালিয়াকান্দিতে নির্যাতিত, তৃণমূল আওয়ামী লীগের কোনো স্থান নেই। আমরা আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিষয়টি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ পূর্বক কমিটি বাতিলের দাবি জানানোসহ তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দিয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান বিশ্বাস, সাবেক সদস্য মো: সিদ্দিকুল্লা মিয়া, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো: বাবুল আক্তার, বালিয়াকান্দি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ পারভেজসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।