দীর্ঘ দেড় বছর পর খুলে দেয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই নিয়ে খাগড়াছড়ির রামগড়ে একটি উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে। দীর্ঘ দিন পর স্কুল খোলার খুশিতে এবং প্রয়োজনে নতুন ড্রেস বানানোর জন্য ভিড় করছেন দর্জি দোকানে। এতে হিমশিম খাচ্ছেন দোকানীরা। তাদের দাবি একসাথে এত ড্রেস সেলানোর কাজ তারা আগে কখনো পায়নি। এ যেন এক মধুর যন্ত্রণায় পড়েছেন দর্জিরা।
স্কুল খোলার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও প্রতিদিন ২০-২৫টি স্কুল ড্রেস তৈরীর অর্ডার হচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলো থেকে ঘরোয়া দর্জিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়ে আসছেন দোকানীরা। তবুও যথা সময়ে ক্রেতাদের হাতে নতুন বানানো জামা তুলে দিতে পারছেন না।
উপজেলা শিক্ষা অফিস জানান, রামগড় উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৭টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫টি, কলেজ ১টি, মাদরাসা ২টি, কিন্ডারগার্ডেন রয়েছে ৩টি ও নুরানী মাদরাসা ১৪টি। প্রাথমিকে ৮ হাজার ১৪০ জনসহ মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যার ১৬ হাজার ৫০০ জন প্রায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রামগড়ের আল-আমিন বস্ত্র বিতানে রামগড় বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ড্রেস বানানোর জন্য ভিড় করছেন। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাদিয়া সুলতানা জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় ড্রেস অব্যবহৃত ছিলো। নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ড্রেস বানানোর জন্য দিয়েছেন। স্কুল খোলার আগে ড্রেসের মাপ দিলেও এখনো হাতে পাননি।
মাকে সাথে নিয়ে জামা নিতে এসেছিলেন দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা। তার মা নাইমা রহমান জানান, স্কুল খোলায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি খুশিতে মেয়েকে নতুন দুই সেট ড্রেসের পাশাপাশি একটি বোরকা বানিয়ে দিয়েছেন।
রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম জানান, মহামারী করোনার কারণে দেড় বছর স্কুল বন্ধ ছিলো। মানসিকভাবে তারা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন শিক্ষার্থীরা সবাই স্কুলমুখী হতে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ড্রেস পরে আসা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্ন শ্রেণীকক্ষে নতুন ড্রেস পরে শিক্ষার্থীদের দেখে মন ভরে যায়।



