রংপুরের কাউনিয়ার টেপামধুর ইউনিয়নের চর গনাই এলাকার তিস্তা নদীতে পাওয়া জলজ প্রাণিটির পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ধুম্রজাল। উপজেলা মৎস্য বিভাগ প্রাণিটিকে তিমি মাছের বাচ্চা বলে শনাক্ত করে তা মাটিতে পুঁতে রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তবে অনেকেই এটাকে ডলফিন বলেছে।

মাছটির শিকারি ওই এলাকার জসিম উদ্দিনের পুত্র আব্দুল করিম জানান, মঙ্গলবার ভোরে চটকা জাল দিযে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় তিস্তা নদীতে একটি বাগাইর মাছের মতো কিছু দেখতে পাই। তখন আমি আমার সাথে থাকা ছেলেকে বলি, আজ বড় মাছ ফাদাইলাম। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখতে পাই সেটি বাগাইর মাছ নয়, অন্য মাছ। কিন্তু কী মাছ তা বুঝতে পারছিলাম না? তখন আমি আমার পুত্রসহ দুলু নামের এক ব্যক্তি সহযোগিতায় প্রথমে মাছটির পেটে শিকল দিয়ে বাঁধি। পরে ওই শিকল নৌকার সাথে বেঁধে টেনে চরে নিয়ে আসি।

মাছ পাওয়ার ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মাছটিকে দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভির করেছেন সেখানে। অনেকেই ইউটিউব সার্স দিয়ে তখন এটাকে শুশুক কিংবা ডলফিন বলে ধারণা করেন।

বেলা সাড়ে ১২টায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কাউনিয়া উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। সাথে ছিল কাউনিয়া থানা পুলিশ।

মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে এসে জলজ প্রাণীটি আমি পরিমাপসহ অঙ্গ-প্রতঙ্গ দেখেছি। এটি একটি তিমি মাছের বাচ্চা। মাছটির দৈর্ঘ্য ৯ ফিট। ওজন চার মণের কাছাকাছি। মাছটি মৃত হওয়ায় তিনি তা মাটিতে গর্ত করে পুঁতে রাখার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনেকেই এটাকে শুশুক বলছেন, কিন্তু এটা শুশুক নয়, কারণ শুশকের ওজন দেড় মণের বেশি হয় না। তবে ডলফিনও নয়। এটা তিমির বাচ্চা। তবে কোন প্রজাতির তিমি, এটি তিনি সেটা বলতে পারেননি। এছাড়াও তিমি মাছ কিভাবে তিস্তা নদীতে এলো তাও জানাতে পারেননি এই মৎস কর্মকর্তা।

তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, আমি অসুস্থ। ঘটনান্থলে যেতে পারিনি। উদ্ধার হওয়া মাছটির ছবি থেকে মনে হয়ে এটি ডলফিন প্রজাতির মাছ। এগুলো লোনা পানির মাছ। মিঠা পানিতে ভুল করে এসে ফুড পয়জোনিংয়ে মারা গেছে।

সকালে ঘটনাস্থল থেকে টেপা মধুপুর হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র আনিছুল ইসলাম জানান, ওই এলাকার জসিম উদ্দিনের পুত্র আব্দুল করিম মঙ্গলবার সকালে জাল দিয়ে মাছ ধরতে নামেন তিস্তা নদীতে। ঘন্টাখানেকের মধ্যে তার জালে আটে যায় বিরল প্রজাতির এই জলজ প্রাণিটি। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। ৫-৭ জন মিলে সেটিকে আস্তে আস্তে নদী থেকে নৌকায় তোলা হয়। পরে চরে নিয়ে আসেন। উদ্ধার হওয়া প্রাণিটি দেখতে ওই চরে ভির করেন অনেকেই। তিনি জানান, আমরা নেট ঘেটে দেখতে পাই এটা শুশুক অথবা ডলফিন জাতীয় জলজ প্রাণি।

টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি জানান, বিশাল আকৃতির ওই মাছটি পাওয়ার খবর পেয়ে আমি মৎস্য অফিসকে জানাই। মুলত এটা শুশুক কিংবা ডলফিনই হবে। কিন্তু মৎস বিভাগ এসে তিমি মাছের বাচ্চা হিসেবে শনাক্ত করে। মৎস্য বিভাগের পরামর্শে মাছটি পুঁতে রাখা হবে।