কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ। এর চার দিন পর স্থানীয় এক যুবক বন বিভাগের সহায়তায় পেটে ডিম ভর্তি সাপটিকে শনিবার রাতে কুষ্টিয়ার দুর্গম চরে অবমুক্ত করা হয়েছে।

ওই যুবক শাহাবুদ্দিন মিলন জানান, গত বুধবার পদ্মার শাখা গড়াই নদীতে মাছ ধরতে যান শহরের মঙ্গলবাড়িয়া এলাকার মৃদুল শেখ। মাছ ধরার একপর্যায়ে তার জালে সাপটি আটকে যায়। তার কাছে প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা এই সাপটিকে অন্যান্য সাপের থেকে ব্যতিক্রম মনে হওয়ায় তিনি সাপটিকে বালতিতে ভরে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। সাপটির পেটে ডিম ভর্তি থাকায় তেমন একটা নড়া-চড়া করছিল না। জেলে মৃদুল শেখ সাপটি বিক্রি করার জন্য সাপুড়েদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। সাপটি উদ্ধারের খবর লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লে এক নজর সাপটিকে দেখার জন্য তার বাড়িতে এলাকাবাসীসহ দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন ভিড় করতে থাকে। সাপ ধরার পর খবর জানতে পেরে শনিবার রাত ৯টার দিকে প্রকৃতি প্রেমী ও সমাজ সেবক শাহাবুদ্দিন মিলন বন বিভাগের লোকজনকে নিয়ে ওই বাড়িতে ছুটে যান।

কুষ্টিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, বিষয়টি জানতে পেরে শনিবার রাতে তিনি লোকজন নিয়ে জেলে মৃদুল শেখের বাড়িতে যান। পরে সাপটিকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়ার দুর্গম চরে অবমুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, জেলে মৃদুল শেখের জানা ছিল না এটি রাসেল ভাইপার সাপ এবং এর বিষ কতটা ভয়ংকর হতে পারে।

বাংলাদেশে অনেক আগেই এই সাপটি বিলুপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি বন্যার কারণে ভারত থেকে সাপটি ভেসে এসেছে। গত এক সপ্তাহ আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী এলাকার ছেঁউড়িয়ায় একজন জেলে গড়াই নদীতে মাছ ধরার সময় জালে আরেকটি রাসেল ভাইপার সাপ ধরা পড়েছিল বলে জানা গেছে।