কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নার্সের অবহেলায় চিকিৎসা না পেয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মৃত দুই শিশুর স্বজনসহ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের অভিভাবকদের রোষানলে পড়েন দায়িত্বরত নার্সসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সোমবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত দুই শিশু হলো জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকার ছয়ানিপাড়ার দিলীপ চন্দ্র রায়ের মেয়ে এবং জেলার রাজীবপুর উপজেলার মরিচাকান্দি গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে। দুই শিশু গত শনিবার জন্মগ্রহণ করে।
মৃত এক শিশুর বাবা দিলীপ চন্দ্র রায় জানান, গত শনিবার জেনারেল হাসপাতালে তার স্ত্রী অঞ্জনা একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। স্বাভাবিক প্রসব হলেও জন্মের সময় মাথায় আঘাত পেয়েছে জানিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এরপর তাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেয়ারও ব্যবস্থাপত্র দেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।
দিলীপ রায় বলেন, ওষুধ আর স্যালাইন নিয়ে এসে তা নার্সদের দিয়ে শিশুকে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তারা কথা শোনেননি। এখনো স্যালাইন অব্যবহৃত পড়ে আছে। সোমবার দুপুরে শিশুর নাক থেকে অক্সিজেনের লাইন খুলে গেলে তা ঠিক করার জন্য নার্সদের ডাকি; কিন্তু তারা ধমক দিয়ে আমাদের ফিরিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পরে শিশুটি মারা যায়।
অপর মৃত শিশুর বাবা রইসলাম জানান, শিশুকে চিকিৎসা ও ওষুধ দিতে ডাকলে নার্সরা আসেননি। চিকিৎসার অভাবে কখন শিশুটি মারা গেছে আমরা টেরও পাইনি।
এ দিকে শিশু ওয়ার্ডে বিকেল শিফটে দায়িত্বরত নার্স তুলরানী ও উর্মিলা সাহা এসব অভিযোগের বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হানপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ লিংকন বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর শিশু ওয়ার্ডে গিয়েছি। শিশু দু’টির শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। শিশু দু’টিকে রংপুরে নিয়ে যাওয়ার জন অভিভাবকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। নার্সদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক বলেন, প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি করা হবে। সেবা দিতে গিয়ে যদি তারা রোগীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে সেটি কাম্য নয়। দায়িত্বে অবহেলা করে থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।



